


ইসলামাবাদ: সাধারণ মানুষের ভোটে জেতা সরকার নয়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত ক্ষমতা যাচ্ছে সেনার হাতেই। অপারেশন সিন্দুরে ভারতের কাছে বেধড়ক মার খেয়েছে পাকিস্তান। তারপরই ওই পথে পা বাড়িয়েছে শাহবাজ শরিফ সরকার! এজন্য সংবিধান সংশোধন করা হচ্ছে। তাতে পাকিস্তানের মূল চালিকা শক্তি হয়ে উঠবেন সেনা প্রধান আসিম মুনির। বিভিন্ন সূত্রে এই খবর ছড়াতেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সংবিধানের মূল ভিত্তিই নড়ে যাবে। এজন্য দেশজুড়ে প্রতিবাদে নামছে তারা।
জানা যাচ্ছে, ২৭ তম সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাব আনতে চলেছে সরকার। এর মাধ্যমে অগাধ ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে সেনার হাতে। এতে রয়েছে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স (সিডিএফ) নামে নতুন ও প্রবল শক্তিধর একটি পদ তৈরির সংস্থান। সেনাপ্রধান এই পদে বসবেন। বর্তমান ফিল্ড মার্শাল তথা সেনা, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনার প্রধান আসিম মুনিরই হবেন নয়া সিডিএফ। সংশোধনীতে ফেডেরাল সাংবিধানিক আদালত তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। তাদের হাতে সুপ্রিম কোর্টের মতোই বেশ কিছু ক্ষমতা থাকবে। পাশাপাশি, হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বদল ও দেশের প্রেসিডেন্টদের আজীবন ফৌজদারি মামলা থেকে রক্ষাকবচের বিষয়টিরও উল্লেখ রয়েছে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে। বিরোধীদের দাবি, সমস্ত প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোই ভেঙে পড়বে। সেনাই খেয়ালখুশি মতো প্রশাসন চালাবে। সাধারণ মানুষের অধিকারের কোনও গুরুত্বই থাকবে না।
এই নিয়ে রবিবার সুর চড়িয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ইমরান খানের দলের বক্তব্য, ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর পর আজীবন প্রচুর সুযোগসুবিধা ভোগ করবেন ফিল্ড মার্শাল। তাঁর বিরুদ্ধে কোনওদিন কোনও মামলা হবে না। আসলে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে অসংখ্য ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুনির। তাই নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে সংবিধান সংশোধন করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নয়া সংশোধনীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতেরও ক্ষমতা খর্ব হবে। রবিবার থেকে একাধিক দলের বিরোধী জোট তেহেরিক-ই-তেহাফুজ আয়েন-ই-পাকিস্তান (টিটিএপি) আন্দোলনে নেমেছে।