


কাবুল ও ইসলামাবাদ: ডুরান্ড লাইনে অশান্তি অব্যাহত। আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘর্ষ ক্রমে জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। শনিবার সকালে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জালালাবাদে হামলার চেষ্টা করতে গিয়ে ধাক্কা খেল পাক বায়ুসেনা। তালিবানের পালটা হামলায় ভূপতিত হয়েছে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান। কোনোক্রমে বেরিয়ে আসেন পাক উইং কমান্ডার। তাঁকে বন্দি করেছে তালিবান সেনা। কাবুলের সংবাদমাধ্যম এই খবর জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উইং কমান্ডার প্যারাস্যুটে নামার পর তাঁকে আটক করা হয়। আফগানিস্তানের দাবি, মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপতিত হয়েছে। যদিও পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করেছে।
পাশাপাশি জানা গিয়েছে, একাধিক পাক সামরিক ঘাঁটিতে অব্যর্থ হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। রাজধানী ইসলামাবাদ ও সামরিক সদর দপ্তর রাওয়ালপিণ্ডিতেও হামলা চালানো হয়েছে। আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ইসলামাবাদের ফয়সালাবাদের কাছে একটি সামরিক শিবির, নওশেরার সেনানিবাস, খাইবার পাখতুনখোয়ার জামরুদে হামলা চালিয়েছে তারা। শুক্রবার রাতে মানবহীন বিমান ব্যবহার করে পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ায় ১১ জন নিহত হওয়ার পর জরুরি অবস্থার ঘোষণা করা হয়েছে। আফগানিস্তানের এই দাবি খারিজ করে পাক তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার বলেছেন, ‘প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হয়েছে।’ তাঁর পালটা দাবি, অপারেশন গাজাব লিল হক-এ আফগানিস্তানের ১০৪টি সামরিক পোস্ট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। আরও ২২টি সীমান্ত পোস্ট দখল করেছে তারা। এছাড়া ১৬৩টি ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি বিমান হামলা করা হয়েছে ৩৭টি জায়গায়। পাক হামলায় ৩৩১ জন তালিবান সদস্যর মৃত্যু হয়েছে। জখম পাঁচ শতাধিক। আফগানিস্তান অবশ্য এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে।
দুই যুযুধান দেশকে সংযত থাকার আরজি জানিয়েছে ইরান, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেনের মতো দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যদিও ‘একাধিক যুদ্ধ থামানো’র দাবি করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামাবাদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। পাকিস্তানের হামলার সিদ্ধান্তকে ‘দুর্দান্ত কাজ’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘তালিবান হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে ওয়াশিংটন সমর্থন করে। পাকিস্তানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। ওরা দারুণ ভালো কাজ করেছে।’ তিনি ভবিষ্যতে এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে, আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছিল আফগানিস্তান। যদিও শনিবার পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র জানিয়েছে, কোনো আলোচনা তারা চায় না।