


কলকাতা, ২৩ জুলাই: জন্মের সংশাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা পঞ্চায়েত ও পুরসভার প্রধানদের হাত থেকে কেড়ে নিতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। পরিবর্তে সরকারি আধিকারিকদের হাতে ওই ক্ষমতা ন্যস্ত করা হবে। বাম আমলে ১৯৯৭ সালে সরকারি আধিকারিকদের হাত থেকে এই ক্ষমতা গিয়েছিল পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে। ২০০০ সালে পুরসভার মেয়র বা চেয়ারম্যানদের এই ক্ষমতা দেয় রাজ্য সরকার। এসআইআরের পর্ব সহ অন্যান্য সময়ে জন্ম শংসাপত্র বিলিতে বিস্তর গরমিলের ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘এবার থেকে সরকারি আধিকারিকেরাই এই শংসাপত্র দেবেন। স্বাস্থ্য দপ্তর গোটা রাজ্যে এবিষয়ে কেন্দ্রীয় ভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। এর ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। আধিকারিকরা অবৈধ কাজ করলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।’
আজ থেকে রাজ্যজুড়ে প্রতিটি পুরসভা এবং গ্রাম পঞ্চায়েতে যাচ্ছেন রাজ্যের আধিকারিকরা। সঙ্গে পুলিশ। ‘ডেথ অ্যান্ড বার্থ রেজিস্টার’ ডিজিটাইজেসনের কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে যে রেজিস্টার চলছে সেটা ডিজিটাইজ করে আজকেই দিয়ে দেওয়া হবে। আগের রেজিস্টার (১৯৯৭ পঞ্চায়েত এবং ২০০০ পর্যন্ত পুরসভা) পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল করা হবে। দ্রুত কাজ শেষ করে, সেই তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে জেলাশাসকদের কাছে। এই তালিকা ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। যাঁর কাছে শংসাপত্র নেই, তাঁর শুনানি করে তা দেওয়া হবে। অবৈধ শংসাপত্র বাতিল হবে এবং আইনি পদক্ষেপ নেবে সরকার।
একই সঙ্গে এই সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি হবে চূড়ান্ত তথ্যভান্ডার। এর পর থেকে যাবতীয় শংসাপত্র, সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা ইত্যাদি প্রদান করা হবে এই তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে আবেদন মিলিয়ে দেখে। একই সঙ্গে মুখ্যসচিবের মন্তব্য, ‘কোনও অবৈধ বিদেশি নাগরিক এখানে থাকতে পারবে না।’ অতএব, অবৈধ নাগরিক চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও এই তথ্য ভান্ডার গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠবে।