


বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: সর্বত্র আবর্জনার স্তূপ। দুর্গন্ধে টেকা দায়! তাই রাস্তায় বেরলেই নাকে রুমাল চাপা দেওয়া অভ্যাস করে ফেলেছেন বাসিন্দারা। পর্যাপ্ত পানীয় জলও মিলছে না অনেক জায়গায়। রাস্তাঘাট বেহাল। সন্ধ্যা নামলে ঘন অন্ধকার ডুবছে বিভিন্ন এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে পানিহাটি পুরসভার পরিষেবার হাল এমনই। এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই কবে মিলবে, তা জানা না গেলেও পুরসভা আপাতত ব্যস্ত তাদের ১২৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান নিয়ে। তাতে আপত্তিরও অবশ্য কিছু নেই! কিন্তু গোল বেধেছে অন্য জায়গায়! অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানের খরচ তুলতে শহরবাসীর ঘাড়ে চাঁদার বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে পানিহাটি পুরসভা। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানের জন্য টাকা নিয়ে যে রসিদ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে তারিখ এবং বিল সংগ্রাহকের সই থাকছে না। অমরাবতী মাঠ ‘বিক্রি’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের আবহে পুরসভার এই কর্মকাণ্ড জনগণের ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। তবে পুরসভার চেয়ারম্যান এর মধ্যে অন্যায়ের কিছু দেখছেন না।
১৯০০ সালের ১লা এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পানিহাটি পুরসভা। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু থেকে শুরু করে মহাত্মা গান্ধী, সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বহু মনীষীর পদধূলিধন্য এ শহর। ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নানা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে পুরসভা। সেই অনুষ্ঠানের খরচ সামলাতে সাধারণ মানুষের উপর চাঁদার বোঝা চাপানো চলছে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, পুরসভার অ্যাসেসমেন্ট সহ বিভিন্ন বিভাগে মিউটেশন এবং বিভিন্ন পরিষেবার জন্য যাঁরা আসছেন, তাঁদের থেকে বাধ্যতামূলকভাবে এক হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। নানাবিধ হয়রানির ভয়ে তাঁরা টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু বাইরে এসে উগরে দিচ্ছেন ক্ষোভও। চাঁদার রসিদে কেবল দাতার নাম, বিল নম্বর ও টাকার পরিমাণ লেখা থাকছে। কিন্তু তারিখ, সংগ্রাহক ও পুরসভার চেয়ারম্যান তথা উৎসব কমিটির চেয়ারম্যানের সইয়ের জায়গা ফাঁকা রাখা হচ্ছে। সরকারি জায়গায় এমন কাণ্ড কীভাবে হয়ে চলেছে, প্রশ্ন উঠছে পুরসভার ভিতরে-বাইরে। পুরসভার একটি সূত্রের দাবি, শহরবাসীর থেকে চাঁদা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বহু কাউন্সিলার জানেনই না। বোর্ড মিটিংয়ে কোনও আলোচনাও হয়নি। পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় রায় বলেন, ‘১২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে জোর করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। ইচ্ছুক ব্যক্তিরাই চাঁদা দিচ্ছেন।’ বিলে কেন কারও স্বাক্ষর থাকছে না? চেয়ারম্যানের সওয়াল, ‘সমস্ত বিলে সই করে রাখা যায় না। আমাদের কাছে থাকা কাউন্টার পার্টে সই থাকছে।’
প্রসঙ্গত, পানিহাটি পুরসভা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে বিতর্কের অন্ত নেই। ‘পানিহাটির ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত ৮৫ বিঘা আয়তনের অমরাবতী মাঠ ‘বিক্রি’র ষড়যন্ত্র রুখতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে। উন্নয়নমূলক কাজের আড়ালে সংশ্লিষ্ট সোসাইটিকে ওই মাঠ বাণিজ্যিক ব্যবহারের ছাড়পত্র পুরসভা দিয়েছিল বলে অভিযোগ। কয়েক মাস আগে এই শহরের আবর্জনা সাফাই নিয়েও তোপ দেগেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ফের নয়া বিতর্কে জড়াল পানিহাটি পুরসভার নাম।