


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালীগঞ্জের ঘটনার পর ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির যে আচরণ করেছেন, তার প্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধায়ককে শোকজের চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। তাঁকে তিনদিনের মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কালীগঞ্জে বোমার আঘাতে এক নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলছে। সবদিক খতিয়ে দেখছে পুলিস প্রশাসন। এই অবস্থায় মৃত নাবালিকা তমান্না খাতুনের বাড়িতে যান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তিনি তমান্নার পরিবারকে ব্যক্তিগভাবে অর্থ সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। তবে বিধায়কের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তমান্নার বাড়ির লোকজন। কিন্তু বিধায়ক তথা প্রাক্তন পুলিস কর্তা হুমায়ুন কবিরের আচরণকে কোনওভাবেই ভালো চোখে দেখছে না তৃণমূল। ঘটনা ঘটেছে নদীয়া জেলার কালীগঞ্জে। আর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একজন বিধায়ক কেন গেলেন আর কেনই-বা টাকা তিনি দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন ওই পরিবারকে—এনিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিষয়টি অস্বস্তি বাড়িয়েছে তৃণমূলের। এই ঘটনায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। আর ওই প্রেক্ষিতেই দেখা গেল, বৃহস্পতিবার ডেবরার বিধায়ককে চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নদীয়ার কালীগঞ্জের ঘটনাটি নিদারুণ দুঃখজনক। বিষয়টি সম্পর্কে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব অবহিত আছেন এবং প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থাও নিচ্ছেন তাঁরা। তা সত্ত্বেও এক তৃণমূল বিধায়কের এমন অযাচিত হস্তক্ষেপে দলের ভাবমূর্তি আহত হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব এটাকে ‘দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ’ বলেই মনে করছেন। তাই এই আচরণের জন্য হুমায়ুন কবিরকে তিনদিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগেও, ডেববার এই বিধায়ককে নিয়ে একাধিকবার দলকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল। বিধানসভায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সংক্রান্ত প্রশ্ন তোলায় দলের কড়া কথা শুনতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু এবার যে ঘটনা তিনি ঘটিয়ে বসেছেন, সেটাকে মোটেই সহজভাবে নিচ্ছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব।