


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই পরিত্যক্ত বহুতল ভাঙার সময় গুরুতর জখম হয়েছেন এক পথচারী। গৌতম ঘোষ নামের ওই পথচারীর পা ভেঙে গিয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে নারকেলডাঙা থানার ১ নম্বর ষষ্ঠীতলা রোডে। বাড়িটি ভাঙার কাজ করছিল বেলেঘাটার ত্রাস রাজু নস্করের ঠিকাদারি সংস্থার লোকজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ষষ্ঠীতলা রোডে প্রায় শতাধিক বছরের পুরানো ওই জীর্ণ তিনতলা বাড়িতে একসময়ে ২৩টি পরিবার থাকত। তাদের কেউ ৭০ বছর, কেউ আবার ৭৫ বছরের ভাড়াটিয়া। গত জানুয়ারি মাসের গোড়ায় রাজু নস্কর গ্যাংয়ের নজরে পড়ে বিল্ডিংটি। ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে তাঁরা কেউই ভাড়ার চুক্তিপত্র বা টাকার জমার রসিদ দেখাতে পারেননি। এরপর তাঁদের মারধর ও হুমকি দিয়ে উচ্ছেদ করা হয় বলে অভিযোগ। বেলেঘাটার ত্রাস রাজু নস্কর বর্তমানে কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখার হেপাজতে থাকায় এই অভিযোগ নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
গত ৬ জানুয়ারি কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু করে রাজুর লোকজন। এলাকাবাসী এ নিয়ে নারকেলডাঙা থানায় একাধিকবার অভিযোগ পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে বাসিন্দারা কলকাতা পুলিশের ডিসি (ইএসডি)-র কাছে গণস্বাক্ষর সহ স্মারকলিপি জমা দেন। তারপরও অবশ্য কাজের কাজ কিছু হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর। এদিন সকাল ৮টা নাগাদ বহুতলটি ভাঙার সময় চাঙড় ভেঙে পায়ে এসে লাগে ওই পথচারীর। তাঁকে নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর পা ভেঙে গিয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে স্থানীয় কাউন্সিলার পাপিয়া ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। শতাব্দী প্রাচীন ওই বিল্ডিংয়ের ঝুল-বারান্দা ভাঙার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।’