


সংবাদদাতা, বনগাঁ: সেই বাম আমল থেকে শুরু হয়েছিল আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু মিছিল। দেখতে দেখতে গত ৩০ বছরে আর্সেনিক আক্রান্ত হয়ে মৃত প্রায় ৫০। এই এলাকার বাসিন্দাদের দাবি একটাই, ‘পরিস্রুত পানীয় জল চাই।’
তাঁরা বলেন, ‘ভোট আসে, ভোট যায়। রাজনৈতিক দলের বদল হয়। বদলা নিতে দেখা যায়। হয় না শুধু পরিস্রুত পানীয় জলের প্রকল্প।’ একাধিক মৃত্যু দেখার পর আর বদল কিংবা বদলার রাজনীতি চান না গাইঘাটার বাসিন্দারা। তাঁরা চান শুদ্ধ, পানযোগ্য একটু জল। যাতে আর্সেনিকে কাউকে আর মরতে না হয়।
মৃতদের নামগুলি এক এক করে বলছিলেন গাইঘাটার বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা জগবন্ধু মণ্ডল। তিনি নিজেও আর্সেনিক আক্রান্ত। প্রায় ৪০ বছর ধরে আক্রান্তদের সেবা করছেন। তিনি জানান, গাইঘাটার বিষ্ণুপুর, গাজনা তেঘরিয়া, বিষ্ণুপুর উত্তরপাড়া, জয়ন্তীপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা আর্সেনিক প্রবণ। এলাকার বহু মানুষ বছরের পর বছর ধরে নিজের শরীরে আর্সেনিকের বিষ বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন। ভুক্তভোগী কিছু মানুষ জানান, গত কয়েকবছরে গাইঘাটা উত্তরপাড়ায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে আর্সেনিকের কবলে পড়ে। জয়ন্তীপাড়ায় মারা গিয়েছেন প্রায় ২০ জন। কয়েকবছর আগে একদিনে আর্সেনিক আক্রান্ত হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়। আক্রান্তদের হাতে, বুকে, পিঠে ছিল সংক্রমণের সুস্পষ্ট চিহ্ন। এখন চোখে ঝাপসা দেখেন অনেকে। কেউ একটু কাজ করতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠেন। পানীয় জলে অতিমাত্রায় আর্সেনিক থাকায় বাড়িতে আত্মীয়রা আসতে ভয় পান। ভয়ে অনেকে গাছের ডাব পর্যন্ত খেতে চান না। এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের দাবি, ‘যে দলই ভোটে জিতুক আমাদের কথা একটু ভাবুক। অন্তত বেঁচে থাকার পানযোগ্য জলটুকু দিক।’ জগবন্ধুবাবু বলেন, ‘এত বছরেও আমরা পরিস্রুত পানীয় জলটুকুও পেলাম না! সরকার এত ভাতা দিচ্ছে, অন্তত আর্সেনিক আক্রান্তদের ওষুধটা দিক।’
বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থীরা। তৃণমূল প্রার্থী নরোত্তম বিশ্বাস বলেন, ‘বিগত দিনে বিধায়ক মানুষের উন্নয়নের কথা ভাবেননি। আমি ভোটে জিতে পরিস্রুত পানীয় জল ও বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কাজ এই এলাকায় পৌঁছে দেব।’ সিপিআই প্রার্থী ডাঃ সজল বিশ্বাস বলেন, ‘আর্সেনিক প্রাকৃতিক সমস্যা। তবে জিতলে গাইঘাটাবাসীর বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেব।’ বিজেপি প্রার্থী সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দিতে দিচ্ছে না তৃণমূল। বিজেপি সরকার গড়ে ভবিষ্যতে বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেবে।’