


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দু’মাসে মাত্র ৫৫টি নির্মীয়মাণ ভবনের ক্ষেত্রে পুনরায় কাজ চালুর অনুমোদন দিয়েছে সংশ্লিষ্ট অডিট কমিটি। ফের কাজ শুরুর অনুমোদন পায়নি বিপুল সংখ্যক নির্মাণ। এই অবস্থায় অডিট প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমনই জানিয়েছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডে। তবে কতদিনের জন্য সেই সময়সীমা বাড়বে, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি তিনি।
উল্লেখ্য, তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের পর শহরের নির্মীয়মাণ বিল্ডিংগুলির ‘অডিট’ শুরু হয়। কলকাতাসহ ১৩টি পুরসভায় সমস্ত ধরনের বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণকাজ ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ছ’তলা বা তার বেশি উচ্চতার নির্মীয়মাণ আবাসিক ভবনগুলিকেও অডিটের আওতায় আনা হয়। অডিট প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে বলে খবর। স্বাভাবিকভাবেই এই অডিট আর কতদিন চলবে, কবে নির্মাণের স্বাভাবিক গতি ফিরবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সমীক্ষা করে এখনও পর্যন্ত কলকাতায় মাত্র ৫৫টি নির্মাণকে পুনরায় কাজ চালুর জন্য ‘গো অ্যাহেড’ ছাড়পত্র দিয়েছে অডিট কমিটি। সেখানে অডিটের আওতায় রয়েছে শহরের ৩৪৪টি নির্মাণ। অভিযোগ, অত্যন্ত ঢিমেতালে স্ক্রুটিনির কাজ করছে অডিট কমিটি। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, ৩৪৪টি নির্মাণের মধ্যে বেশিরভাগ নির্মীয়মাণ ভবনে ভিজিট হয়ে গিয়েছে। কোনোটির রিপোর্ট অডিট কমিটির কাছে পেশ হয়েছে, কোনোটি আগামী দিনে পেশ করা হবে। তবে আবাসন নির্মাতাদের সংগঠনের তরফে সরকারের কাছে অনুরোধ রাখা হয়েছিল, আপাতত মুচলেকা (আন্ডারটেকিং) দিয়ে কাজ চালুর অনুমোদন দেওয়া হোক। দু’মাসের মধ্যে সরকার নির্দেশিত সব শর্ত পূরণ করবে তারা। এ প্রসঙ্গে স্মিতা পান্ডে বলেন, ‘সরকারি তরফে এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যেখানে নির্মাণকাজ সেভাবে শুরুই হয়নি বা ভিত পর্যন্ত হয়তো নির্মাণ হয়ে পড়ে রয়েছে, তাদেরকে কাজ চালাতে বলা হয়েছে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, একদিক থেকে ভালো বিষয় হচ্ছে এই যে, এমন ফুলপ্রুফ অডিট আগে কখনও হয়নি। কোনো নির্মাণের স্ট্রাকচারাল ডিজাইন থেকে শুরু করে নির্মাণসামগ্রীসহ যাবতীয় বিষয় যেমন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তেমনই শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার বিষয়টিও অডিট কমিটির কাছে বিবেচ্য। এত খুঁটিনাটি বিষয় দেখতে হলে এত কম সময়ের মধ্যে তা সম্ভব নয়। তাই অডিটের সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে।