


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের (পিএইচই) প্রকল্পের হাল খতিয়ে দেখতে বুধবার রাজ্যের প্রতিনিধি দল বাঁকুড়ায় আসেন। এদিনই বাঁকুড়া শহর সহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাঁকুড়া পুরসভার মাধ্যমে শহরে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। জেলার গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহরের বাসিন্দারাও জলের জন্য দিনভর হাপিত্যেশ করে বসেছিলেন। এনিয়ে পিএইচই-র আধিকারিকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। এদিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে থাকা পিএইচই-র এক আধিকারিক জল সরবরাহ বন্ধের পিছনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা জানান। অথচ বাঁকুড়া পুরসভাকে পিএইচই-র তরফে দুর্গাপুর ব্যারাজের ইনটেক পয়েন্টে কচুরিপানা জমে যাওয়াকে পরিষেবা বন্ধের কারণ হিসাবে জানানো হয়েছে। বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, এদিন রাজ্যের দুই সচিব পদমর্যাদার আধিকারিক জেলায় এসেছেন। তাঁরা দু’দিন ধরে বাঁকুড়ার একাধিক জল প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখবেন। এদিন ইন্দপুর ও ছাতনা ব্লকের কয়েকটি প্রকল্প এলাকা তাঁরা পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বাঁকুড়ায় জল প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে রয়েছে। তৃণমূল জমানায় আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার অভিযোগ তুলতেন। বর্তমানে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। তারপরেও কেন প্রকল্পের কাজ সেভাবে চলছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাসিন্দাদের আর্সেনিকমুক্ত পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা নিয়ে পিএইচই-র আধিকারিকদের উদাসীনতায় জেলাবাসীর পাশাপাশি প্রশাসনের কর্তারাও বিরক্ত। এব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সজাগ হওয়া উচিত বলে তাঁরা মনে করেন।
বাঁকুড়া শহরের ফাঁসিডাঙার বাসিন্দা মিতা পাল ও দোলা মহাপাত্র বলেন, এদিন সকাল থেকে পাইপলাইনে পানীয় জল আসেনি। তার জেরে দুর্ভোগে পড়তে হয়। আগাম ঘোষণা না করে এভাবে জল বন্ধ করা উচিত হয়নি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার বহু জায়গায় পাইপ পাতা হলেও পানীয় জলের সংযোগ নেই। ফলে ওইসব এলাকার বাসিন্দারা জল পাচ্ছেন না। বেশকিছু জায়গায় ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ রেখেছেন। দপ্তর তাঁদের বকেয়া টাকা দিচ্ছে না বলে ঠিকাদারদের দাবি। এনিয়ে ঠিকাদার সংগঠনের তরফে পিএইচই-র অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। কাজ বন্ধ থাকায় আখেরে সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রাজ্যের প্রতিনিধিদল দু’দিন ধরে ঠিকাদারদের রূপায়ণ করা কাজের মান খতিয়ে দেখবে। কোনো গাফিলতি নজরে এলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রূপায়িত প্রকল্প খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বাকি থাকা কাজের ব্যাপারেও তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করবেন। সেই মতো রাজ্যে রিপোর্ট জমা পড়বে। অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে কত অর্থ প্রয়োজন, সেব্যাপারেও তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করছেন। সেইমতো আগামী দিনে অর্থ বরাদ্দ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।