


শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ঘরজুড়ে আলো-আবছায়া। ছোট্ট প্রজেক্টরে অবয়ব ভেসে উঠতেই কচিকাঁচাদের উচ্ছ্বাস ‘টি-ন-টি-ন।’ হোয়াইট বোর্ডের সামনে মার্কার হাতে তখন মুচকি হাসছেন একজন। বললেন, ‘ইয়েস আই অ্যাম ফ্রম ল্যান্ড অব টিনটিন।’ ফিলিপ ডি’রাইডার অ্যার্জের দেশের লোক। ইস্ট বেঙ্গলের প্রাক্তন কোচের কার্টুন নিয়ে অগাধ পড়াশোনা। কুট্টুস, ক্যাপ্টেন হ্যাডক, প্রফেসর ক্যালকুলাস থেকে আমাদের বাঁটুল দ্য গ্রেট— রাইডারের অবাধ বিচরণ। কচিকাঁচাদের অবাক চোখের দিকে তাকিয়ে বেলজিয়ান কোচ বললেন, ‘মনের দরজা খুলে রাখো। আলো, হাওয়া আসুক। রং, তুলি, পেনসিলে ভাবনা তৈরি হবেই।’ মোবাইল, রিলসের যুগে এই আকাশজোড়া কল্পনারই বড্ড অভাব।
ছোটোদের নিয়ে নিঃশব্দে কাজ করে ‘অনাবিল’। কার্টুন, ছবি, লেখা, আঁকা থেকে বুকমার্ক কিংবা হাতের কাজ। দক্ষিণ কলকাতায় কচিকাঁচাদের ওয়ার্কশপে সোমবার বিশেষ অতিথি রাইডার। সংস্থার সম্পাদক দূর্বা গাঙ্গুলি জানালেন,‘কার্টুন নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে দীর্ঘদিনের। মিস্টার রাইডারকে অনুরোধ করতেই এককথায় রাজি। বাচ্চারা দারুণ উপভোগ করছে বিষয়টা।’ জানা গেল, হলদিয়ার কাছে নিজস্ব ফুটবল অ্যাকাডেমি গড়ছেন বেলজিয়ান কোচ। সপ্তাহের প্রথমদিন উজিয়ে আসেন কলকাতায়। তারই মাঝে অনাবিলের আমন্ত্রণে কার্টুন নেটওয়ার্ক। প্রথমে প্রজেক্টরে বুঝিয়ে দিলেন খুঁটিনাটি। তারপর? সাদা কাগজে নিপুণ হাতে ফুটে উঠল মজার ছবি এমনকী ব্যঙ্গচিত্রও। খুদেদের কীর্তি দেখে চওড়া হাসি রাইডারের। সঙ্গে পরামর্শ, ‘মন খুলে আঁকো। ভাবনা উজাড় করে দাও।’ ফুটবল ও কার্টুন জগতের দূরত্ব অনেক। ঠিক যেন অন্যগ্রেহের বাসিন্দা। মেলান কী করে? রাইডারের ব্যাখ্যা, ‘জানেন, ব্রাসেলসে টিনটিনের মূর্তি রয়েছে। জনপ্রিয়তা ভাবুন। শুধু রেখার আঁচড়ে তৈরি হয় গল্প। যা মনকে ভালো রাখে। বিশ্বের অনেক ফুটবলারই অবসরে কার্টুন দেখেন।’ কার্টুন বা কমিকের সঙ্গে বাংলার নাড়ির টান। নন্টে-ফন্টে, হাঁদা-ভোঁদা, বাঁটুল নিয়ে রাশি রাশি নস্টালজিয়া। নারায়ণ দেবনাথ, কাফি খাঁ, অমল চক্রবর্তী — ছোট্ট আঁচড়ে বাঙালি হেসেছে। রাজনৈতিক টিপ্পনী, দেওয়াল লিখনেও কার্টুনের বাজার চড়া। রাইডার বললেন, ‘কার্টুন আঁকা সবচেয়ে সোজা। আবার বড্ড কঠিন। কিন্তু শক্ত কথা সহজভাবে বলতে কার্টুনের জুড়ি নেই।’