


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণগঞ্জ: সীমান্তের কাশির সিরাপ পাচার চক্রের কিংপিন সুশান্ত ঘোষ। অপরাধ জগতে কৃষ্ণগঞ্জের এই বাসিন্দা সে ‘সাধু মহারাজ’ বলেই পরিচিত। তাকেই এখন হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিস। ভিন রাজ্যে থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের সিন্ডিকেট চলছে তারই অঙ্গুলি হেলনে। পুলিসের অনুমান, সুশান্ত সাধু বেশে গা ঢাকা দিয়েছে উত্তরপ্রদেশে। সম্প্রতি কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার ভীমপুর থানা এলাকায় কাশির সিরাপ উদ্ধারের একটি মামলার চার্জশিটে তার নাম রয়েছে। তাই গ্রেপ্তারি এড়াতে হাইকোর্টে একাধিকবার আগাম জামিনের আবেদন করেছে। যদিও পুলিস, সুশান্তর নাগাল পেতে আটঘাট বেঁধেই নেমেছে। খুব শীঘ্রই সে ধরা পড়বে বলে আশাবাদী তারা।
পুলিস মহলের দাবি, সুশান্ত ধরা পড়লে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে কাশির সিরাপ পাচারের সিন্ডিকেটের গোড়ায় আঘাত হানা যাবে। তবে পাচার কাজে ব্যবহৃত ‘অবৈধ’ ফোন নম্বরের কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুলিসকে। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, চার্জশিটে অভিযুক্তের নাম রয়েছে। আমরা তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছি। আশা করি খুব শীঘ্রই কাশির সিরাপ পাচারের কিংপিন ধরা পড়বে।
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে ভীমপুর থানার ট্যাংরা এলাকা থেকে ২০ হাজার বোতল কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। সেই ঘটনায় দু’জন গ্রেপ্তার হয়। ওই কাশির সিরাপ এসেছিল উত্তরপ্রদেশের থেকে। তদন্তে নেমে কাশির সিরাপ পাচারের কিংপিন কৃষ্ণগঞ্জের সুশান্তের নাম জানতে পারে পুলিস। এই গোটা চক্রের সঙ্গে তার যোগসাজশের যাবতীয় তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে শুরু করে পুলিস। সেইমতো এই মামলায় চার্জশিট ফাইল করা হয়। তাতে সুশান্ত ঘোষের নাম মূল অভিযুক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়।
এরই মধ্যে গত বছর ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে কৃষ্ণগঞ্জ থানার বাংলাদেশ লাগোয়া নাঘাটা এলাকায় মাটির নীচে বাঙ্কার থেকে বাজেয়াপ্ত হয় ৬৩ হাজার বোতল কাশির সিরাপ। ওই ঘটনাতেও সুশান্তর নাম জড়ায়। বাংলাদেশে কাশির সিরাপ পাচার করার আগে তা ওই বাঙ্কারেই মজুত করে রাখা হয়েছিল। অতীতেও বেশ কয়েকবার সুশান্ত পুলিসের হাতে ধরা পড়েছিল।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারি এড়াতে সুশান্ত আটবার আগাম জামিনের আবেদন করেছে। এর জন্য বহু টাকা করচ করে প্রতিবার নামী উকিল নিয়োগ করেছে। জানা গিয়েছে, সুশান্ত ও তার সহযোগীরা নিয়মিত নতুন সিম কার্ড সংগ্রহ করে। ওই সিমের ফোন নম্বর সক্রিয় করে একটি অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। কিছু সময় পর তারা সিমটি নিষ্ক্রিয় করে দেয়। কিন্তু, ওই নম্বরের সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় থাকে। সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই পাচারকারীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ চালিয়ে যায়। পুলিসের দাবি, একটি অ্যাপের মাধ্যমে পাচারকারীরা নিজেদের কাজকর্ম পরিচালনা করে। ওই অ্যাপের কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইলেও তারা তা শেয়ার করে না। ফলে, তদন্তকারীরা সমস্যায় পড়েন।