


সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: চা বাগান থেকে নারী ও শিশু পাচার সহ যে কোনও অপরাধমূলক কাজকর্ম রুখতে এবার টোটোচালক ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে বিশেষ দায়িত্ব দিল কালচিনি পুলিস। এবার থেকে গোপনে এই ধরনের অপরাধের তথ্য তাঁদের মাধ্যমে সংগ্রহ করবে পুলিস। বুধবার কালচিনি থানায় একটি সেমিনারে এলাকার ২৫০ জন টোটোচালক ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে পুলিসের ফোন নম্বর দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে স্থানীয় স্কুল সহ পড়ুয়াদেরও। কালচিনি থানার ওসি অমিত শর্মাও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজের ফোন নম্বর দিয়েছেন এদিন।
কিন্তু শিশু বা মহিলা পাচার সহ যে কোনও অপরাধের তথ্য আদান প্রদানে টোটোচালকরা কীভাবে পুলিসকে সহায়তা করবেন? পুলিসের পর্যবেক্ষণ, কালচিনি ব্লক চা বাগান বেষ্টিত। ব্লকে ১৮টি চা বাগান। চা বাগানের রাস্তায় কোনও দামি গাড়ি চলাচল করে না। শিশু, নারী পাচারকারী ও অন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্তরা সাধারণত টোটো ব্যবহার করে। টোটোচালকরাই পিছনে বসা যাত্রীদের কথোপকথন শুনতে পান।
কালচিনি থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টোটোচালকরা পিছনে বসা যাত্রীদের কথোপকথনে সন্দেহজনক কোনও কথাবার্তা শুনলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিসকে ফোন করবেন। এধরনের ফোন পেলেই অপরাধীদের ধরতে পুলিসের টিম সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালাবে। তাতে এই ধরনের অপরাধমূলক খবরাখবর পাওয়া পুলিসের পক্ষে সহজ হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিসের নিবিড় সম্পর্কও তৈরি হবে। একইভাবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও এলাকায় কাজ করতে গিয়ে এধরনের সন্দেহজনক কিছু শুনলে পুলিসকে ফোন করে জানাবে। এই তথ্য দেওয়ার জন্য পুলিস অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখবে।
পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, এটা খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে অপরাধীদের ধরতে পুলিসের কাজ আরও সহজ হবে। সমাজে অপরাধ রুখতে সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। নিজস্ব চিত্র।