


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: কোথাও বাড়ির ছাদ ভেঙে পড়েছে। আবার কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুল-বাড়ি, দোকান। ধর্মীয় উপাসনাস্থল, হাসপাতাল পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির তালিকায়। পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে পুঞ্চের বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তুপের মধ্যে দাঁড়িয়ে। ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্যেই দিন গুজরান চলছে পুঞ্চের বাসিন্দাদের। ভয় একটাই, আবার যদি অন্ধকারে আক্রমণ চালায় পাকিস্তান? তখন কী হবে? তাঁদের প্রতি মুহূর্তে তাড়া করে বেড়াচ্ছে, আতঙ্ক, অনিশ্চিয়তা! তাই তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে কাছে পেয়ে মনের কথা উজাড় করে দিলেন পুঞ্চের মানুষজন। দাবি করলেন, যেখানে তাঁদের বসবাস, সেখানে প্রয়োজন স্থায়ী বাঙ্কারের নিরাপদ আশ্রয়।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ঠিক তার এক মাসের মাথায় ২২ মে পুঞ্চে পা রাখল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশিত পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন, মানস ভুঁইয়া, নাদিমুল হক, সাগরিকা ঘোষ ও মমতা ঠাকুর ঘুরে দেখেন পুঞ্চের শুখা কাট্টা, কিল্লা রোড, জিয়া উল উলুম মাদ্রাসা সহ পাকিস্তানের গুলি ও গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। যে জায়গায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল গিয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে খুবই কাছে। তৃণমূলের তরফে বলা হয়, পুঞ্চ ও তাংধারে ১৫ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে এবং আহত হয়েছেন ৪৩ জন। নিহত পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়ান তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। অমরজিৎ সিং নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা অফিসার নিহত হয়েছেন। তাঁর বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁরা শোনেন, সেদিন ঠিক কী হয়েছিল। আবার মাদ্রাসা শিক্ষক কারি মহম্মদ ইকবালও নিহত হয়েছেন। সেই মাদ্রাসা ঘুরে দেখে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। ক্রাইস্ট স্কুলের পড়ুয়া যমজ ভাই-বোন জায়ান ও জোয়া প্রাণ হারিয়েছে পাক গোলায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুলটি। ক্রাইস্ট স্কুল পরিদর্শনের পর মৃত যমজের বাড়িতে গিয়ে বাবা রামিজ খানের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূল প্রতিনিধি দল।
তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের কাছে পুঞ্চের মানুষ জানান, অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। কখন আবার আক্রমণ হবে, সেই ভয় প্রতি মুহূর্তে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তাই আমরা চাইছি, আশ্রয়ের জন্য স্থায়ী ব্যাঙ্কারের ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে পুঞ্চের মানুষ এটাও উল্লেখ করেন, কেন্দ্রের কাছে তাঁদের সমস্যার কথা ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে না। কী কী সাহায্য প্রয়োজন, সেটা কেন্দ্রকে জানানো যাচ্ছে না। সেই তথ্যটা তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হোক। দিল্লির সরকারের কাছে সব বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার আর্জি তৃণমূলের সদস্যদের কাছে রেখেছেন পুঞ্চের মানুষ। দুঃখের সময় পাশে দাঁড়ানোর জন্য তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেছেন, পুঞ্চের হৃদয় স্পর্শ করেছে তৃণমূল। মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সব সম্প্রদায়ের মানুষদের পাশে আমরা আছি।
বস্তুত, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বুধবার শ্রীনগরে পৌঁছায় পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। শ্রীনগরে পৌঁছে তাঁরা জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে বৈঠক করেন। ৯০ মিনিটের আলোচনায় উঠে আসে সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি। সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুননির্মাণ হবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সেখানকার রাজ্য সরকারকে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হোক। আজ, শুক্রবার প্রতিনিধি দল রাজৌরি পরিদর্শনে যাবে।