


গুয়াহাটি, ১০ জুলাই: বহুবিবাহের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল অসম সরকার। আজ, শুক্রবার অসম বিধানসভায় বাজেট পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার। সেখানে প্রস্তাব করা হয়, যাঁরা একাধিক বিয়ে করবেন তাঁরা রাজ্যের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাবে না। কোনও সরকারি কর্মচারী যদি একাধিক বিয়ে করেন তাহলে তাঁকে বরখাস্ত করা হবে। এদিন অসম বিধানসভায় বাজেট পেশ করেন সে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া। তিনি বলেন, জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলি প্রকৃত প্রাপকদের কাছে শুধুমাত্র পৌঁছে দিলেই হবে না। সমাজে সততা এবং নৈতিক মূল্যবোধও নিশ্চিত করতে হবে। নারী ক্ষমতায়নের স্বার্থে বহুবিবাহ করা কোনও পুরুষ সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। দোষী সাব্যস্ত হলে সরকারি কর্মচারীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে অসম সার্ভিসেস ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল নীতি সংশোধনেরও প্রস্তাবও করা হয়েছে। এছাড়া বলা হয়েছে, ফৌজদারি আইনের আওতায় কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তিনিও সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। আগামী আগস্ট মাস থেকেই সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির কার্যক্রম ফের রাজ্যজুড়ে শুরু করা হবে। তার জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ করা হয়েছে। এদিন সে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ২ লক্ষ ৮৫ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। চা চাষের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা চার গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে, পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর ভ্যাট ১০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই বছরের মে মাসে অসম বিধানসভায় ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলটি পেশ করা হয়। যার মাধ্যমে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ, লিভ ইন সম্পর্কের নথিভুক্তকরণ বাধ্যতামূলক করা, বিবাহবিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক নিয়ম লাগু বা ফেরবদলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপরই অসমে বহুবিবাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা ক্ষেত্রে বিল প্রস্তাবিত করা হয়। এই বিল অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী থাকাকালীন কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করলে বা সেটি করার পর গোপণ করলে দোষীর ৭ বছরের কারাদণ্ড হবে। এর পাশাপাশি করা হবে মোটা অঙ্কের জরিমানাও। তবে তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না বলেই জানা গিয়েছে।