


দুবাই: মাঝ আকাশে তখন ধারালো অস্ত্র নিয়ে একের পর এক আঘাত করছেন কো-পাইলট। বিমানের ১৭০ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া লড়াই করছেন ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট স্মিত মচ্ছর। ওমানি কো-পাইলটের আক্রমণে রক্তে ভেসে যাচ্ছে শরীর। কঠিন সময়ে, অস্ত্রের মুখে খালি হাতে লড়াইয়ের জন্য স্মিতের ভরসা ছিল ‘হনুমান চালিশা’। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এমনটাই জানালেন তিনি। বিমানের যাত্রীদের নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন ভারতীয় পাইলট। এদিন তাঁর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলেন মোদি। তিনি স্মিতের শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি সাহসের প্রশংসাও করেন। মোদি জানান, পুরো দেশ পাইলটের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনা করছে। স্মিতকে ‘হিরো’ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গর্বের সঙ্গে বলতে পারে যে, ভারতীয়রা অন্যের প্রাণ কেড়ে নেয় না, বরং তারা অন্যদের বাঁচাতে নিজেদের জীবন বাজি রাখতেও প্রস্তুত।’ অন্যদিকে, স্মিত বলেন, ‘আপনি আমার সবচেয়ে বড়ো আইডল। আপনি আমাকে ফোন করে উৎসাহিত করেছেন, আমি খুবই গর্ববোধ করছি।’
গুরুতর জখম অবস্থায় স্মিত মচ্ছর এখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। এদিন ভিডিয়ো কলেও দেখা যায়, মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা, নাকে নল নিয়ে কথা বলছেন তিনি। স্মিত বলেন, ‘আমি জীবন বাঁচাতে লড়াই করছিলাম। তখন উপলব্ধি করলাম যে, আমি যদি সাহস দেখাতে না পারি, তাহলে ১৭০ জন যাত্রীকে প্রাণ হারাতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জীবনে যখনই আমি সমস্যায় পড়ি, তখন আমি হনুমান চালিশা পাঠ করি। ভগবান হনুমানই আমাকে শক্তি দেন। ককপিটে ওই ঘটনার সময়ও মনে মনে হনুমান চালিশা পাঠ করছিলাম এবারও ভগবানই আমাকে রক্ষা করেছেন।’ স্মিতকে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, পাইলটের পরিবারের সদস্যদের সবরকম সাহায্য করা হবে। এছাড়া স্মিত যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, তার জন্য মেডিকেল সহায়তাও দেওয়া হবে। স্মিতের মা ও স্ত্রীর সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।