


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সামশেরগঞ্জের বিজেপি সমর্থক সুজিত মণ্ডল খুনে মূল অভিযুক্ত খতম সিআইডির এনকাউন্টারে। মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডি আধিকারিকরা অভিযুক্ত সামাউন শেখকে নিয়ে সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলোয় খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে এসেছিলেন। সে সময় সিআইডির এক ডিএসপির রিভলভার কেড়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সামাউন। তখনই পালটা গুলি চালান সিআইডির এক ইনস্পেকটর। গুলিবিদ্ধ সামাউনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বেলা পৌনে তিনটে নাগাদ প্রকাশ্যে গোটা ঘটনা। আর তাকে কেন্দ্র করেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। মোতায়েন করা হয় সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ বাহিনী।
২৮ আগষ্ট সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বিজেপি সমর্থক সুজিত। তারপর থেকে তাঁর খোঁজ মিলছিল না। ৩ সেপ্টেম্বর বল্লভপুরে ফরাক্কা ফিডার ক্যানেল থেকে একটি কাটা পা উদ্ধার হয়। সেটি ছিল সুজিতেরই। তদন্ত পর্বে আরও জানা যায়, তাঁকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করে দেহের বিভিন্ন অংশ ক্যানালে ফেলে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম সামাউন শেখ। খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সামাউনের বান্ধবী তাজকেরা বিবি এবং তার স্বামী সুমন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজিত খুনের চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। এদিনের এনকাউন্টার প্রসঙ্গে জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিং বলেন, ‘ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করছিল। তখনই গুলি চালাতে হয়।’
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ আগস্ট সুজিত রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ নিখোঁজ হওয়ার পর একটি অচেনা নম্বর থেকে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন এসেছিল। সেই ফোন নম্বর ও কথোপকথনের অডিয়ো ক্লিপ পুলিশকে দেওয়া সত্ত্বেও থানা সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি। ফরাক্কা ফিডার ক্যানাল থেকে উদ্ধার হওয়া কাটা পা’টি সুজিত মণ্ডলের বলেই শনাক্ত করেন পরিবারের লোকজন। যদিও এ পর্যন্ত তাঁর দেহের বাকি অংশ উদ্ধার করা যায়নি। খুনের ঘটনার তদন্তে ঢিলেমি ও গাফিলতির অভিযোগে ঘটনায় সামশেরগঞ্জ থানার এএসআই সুমন্ত কুমার দাস এবং সেকেন্ড অফিসার এসআই শফিকুল আলমকে সাসপেন্ড এবং থানার আইসি সুব্রত ঘোষকে ক্লোজ করা হয়েছে। ফরাক্কার এসডিপিও শেখ শামসুদ্দিনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। শো-কজ করা হয়েছে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার এসপিকেও। তদন্তভার মেলার পর সিআইডি মূল অভিযুক্ত সামাউন শেখ সহ আরও দু’জনকে জালে তোলে। জেরা পর্বে খুনের ঘটনায় সামাউনের প্রত্যক্ষ মদতের প্রমাণ মিলেছে। তারপরই এদিন ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মূল অভিযুক্তকে। সেই সময় ঘটে এনকাউন্টার।