


রাজা ভট্টাচার্য: সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। আলো জ্বালানো দরকার। কিন্তু তার চেয়ে বেশি দরকার চিঠিটা শেষ করা। মাথা নীচু করে দ্রুত হাত চালিয়ে লিখতে লাগলেন সুভাষ।
‘এ কী কাণ্ড! তুমি এই অন্ধকারের মধ্যে কাগজে নাক ঠেকিয়ে লিখে চলেছ?’ দরজার সামনে থেকে শোনা গেল একটি ক্রুদ্ধ নারীকণ্ঠ।
সুভাষ একবারও চোখ না তুলে চটপট শেষ শব্দ ক’টা লিখে ফেললেন আগে। তারপর আড়মোড়া ভেঙে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘মা, শরবত খাব।’
এই মুহূর্তে তাঁকে দেশবরেণ্য নেতা সুভাষচন্দ্র বসু বলে মনে হচ্ছে না। যেন কোনো অবুঝ বালক তার মায়ের কাছে অসময়ে শরবত খাওয়ার আবদার করছে।
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে শব্দ করে হেসে উঠলেন বাসন্তী দেবী। চিত্তরঞ্জন দাশ হঠাৎ করে অকালে, মাত্র পঞ্চান্ন বছর বয়সে দেহত্যাগ করেছেন, তাও প্রায় দু’বছর হল। এই দু’বছরের মধ্যে কখনো বাসন্তী এইভাবে হেসে উঠেছেন কি না— সন্দেহ আছে। শুধু সুভাষের সামনে তিনি অসহায় বোধ করেন। ব্যক্তিত্বশালিনী নারী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের পত্নী তথা স্বয়ং একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী বাসন্তী দেবী হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলেন। তার বদলে ভেসে উঠল একজন সাদামাটা স্নেহপরবশ জননী। সুভাষ এমনভাবে তাঁকে ‘মা’ বলে ডাকেন যে, বাসন্তী কিছুতেই তাঁর সঙ্গে পেরে ওঠেন না। বাৎসল্যের সামনে কে-ই বা কবে নিজের কাঠিন্য ধরে রাখতে পেরেছেন?
একজন কাজের লোক এমন সময় দোতলায় উঠে এল ঘরের আলো জ্বালিয়ে দিতে। তাকে দেখে বাসন্তী দেবী বলে দিলেন, ‘শিগগির এক গ্লাস শরবত করে নিয়ে এসো। সুভাষ খাবে। তারপর আমরা দু’জন একটু বেরব।’
মাথা নেড়ে সে চলে গেলে সুভাষ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কোথায় যাব মা?’
‘চলই না! আজ তোমাকে কিছু আশ্চর্য মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব।’ বললেন বাসন্তী, ‘তুমি তো পুরুলিয়ায় খুব বেশি আসতে পার না, সেই কারণে তোমার সঙ্গে কখনো তাঁদের আলাপ হয়ে ওঠেনি। কিন্তু তাঁরাও তোমাকে দেখলে খুশি হবেন।’
কলকাতায় বাসন্তী দেবী বা তাঁর কনিষ্ঠা কন্যা কল্যাণীর শরীর কিছুতেই সারছিল না। তখনই ডাক্তাররা বলেছিলেন, তাঁদের যেন কোনো শুষ্ক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। হাওয়া-বদল করলে উপকার হতে পারে।
সেই কারণেই চিত্তরঞ্জন ‘ক্লার্ক’স বাংলো’ নামের এই বাড়িটি কিনেছিলেন কয়েক বছর আগে। তাঁর পিতা ভুবনমোহন এর নাম বদলে রেখেছিলেন ‘রিট্রিট।’ দেশবন্ধুর মৃত্যুর পর থেকে বাসন্তী দেবী বেশিরভাগ সময় এখানেই থাকছেন। কলকাতার বাড়িটিতে যেন চিত্তরঞ্জনের স্মৃতি তাঁকে বেশি কষ্ট দেয়। জামশেদপুর থেকে ফেরার পথে খবর না দিয়েই আজ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চলে এসেছেন দেশবন্ধুর প্রিয়তম শিষ্য সুভাষচন্দ্র বসু।
একটু পরে মাতা-পুত্র বেরিয়ে পড়লেন। এই বাড়ির সামনে দিয়েই পূর্বে-পশ্চিমে পাড়ি দিয়েছে বরাকর রোড। পশ্চিমদিকে কয়েকটি বাড়ি পেরিয়ে একটা খুব পুরানো গেট ঠেলে ঢুকে পড়লেন বাসন্তী দেবী। তাঁর পিছন পিছন সুভাষও। বোঝাই যায়, বাসন্তী এখানে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন।
সুভাষ বিস্মিত হয়ে চারদিকে তাকাতে লাগলেন। খুব বড়ো বড়ো পুরানো গাছ। তার ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে জীর্ণ এবং পরিত্যক্ত একটি বাড়ি। এই আসন্ন সন্ধ্যাকালেও কোনো আলো দেখা যাচ্ছে না সেই বাড়িতে।
এ তাঁকে কোথায় নিয়ে এলেন বাসন্তী দেবী!
এমন সময় কয়েকটি বালক-বালিকা ছুটে এসে প্রথমে বাসন্তীকে এবং তারপর সুভাষকে প্রণাম করল।
হাসিমুখে তাদের একটু আদর করে বাড়ির দিকে এগতে লাগলেন বাসন্তী। মৃদু অন্যমনস্ক গলায় তিনি বললেন, ‘আজ বোধহয় বাড়ির পুরুষেরা কেউ নেই। অবশ্য থাকবেই বা কী করে! পুলিশ যে পরিমাণ ধরপাকড় আরম্ভ করেছে...।’
সুভাষ কিছু একটা জিজ্ঞাসা করতে যাচ্ছিলেন। তার আগেই ভাঙাচোরা বাড়িটা থেকে বেরিয়ে এলেন এক নারী। অতি সাধারণ এবং পুরানো একটা শাড়ি তাঁর পরনে, হাতে ধরা প্রদীপ। আধো-অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা বাসন্তী ও সুভাষকে দেখে সামান্য চমকে গিয়ে তিনি বললেন, ‘কে? কে ওখানে?’
পরক্ষণেই তিনি বলে উঠলেন, ‘কী কাণ্ড! আপনি এসেছেন? আসুন মা। আমি অন্ধকারের মধ্যে দেখতে পাইনি।’
বাসন্তী এইবার এগিয়ে গিয়ে বললেন, ‘আর এই দেখ কাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি।’
এইবার সুভাষের দিকে তাকিয়ে ভদ্রমহিলার চোখ দু’টি বড়ো বড়ো হয়ে গেল। খদ্দরের ধুতি-পাঞ্জাবি পরা সৌম্যদর্শন এই যুবকটিকে চেনে না, ভারতবর্ষে এখন বোধহয় এমন মানুষ নেই।
সুভাষকে সসম্ভ্রমে নমস্কার করলেন তিনি, ‘আসুন সুভাষবাবু। আমার আগেই লক্ষ করা উচিত ছিল। আসলে মায়ের দিকে চোখ পড়ে যাওয়ায়... আমি তো ভাবতেই পারিনি আপনি একদিন নিজে থেকেই শিল্পাশ্রমে চলে আসবেন।’
বাসন্তী বললেন, ‘তার আগে একটু পরিচয় করিয়ে দিই। সুভাষ, এ হল লাবণ্যপ্রভা। আমাদের অতুলবাবু— অতুলচন্দ্র ঘোষ মশাই— তাঁর স্ত্রী।’
‘আমিও মায়ের মেয়ে।’ এই বলে লাবণ্যপ্রভা মাটির দিকে ইঙ্গিত করলেন।
সেই ইঙ্গিত বুঝে নিতে কারওর অসুবিধা হল না। ইনিও এই দেশমাতৃকারই কন্যা।
সুভাষের চোখ কিন্তু এবার বড়ো বড়ো হয়ে গেল। অতুলবাবুর নাম কে না জানে? পুরুলিয়া অঞ্চলের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোহিত তিনি। নিবারণচন্দ্রের প্রধান সহযোগী। তাঁর স্ত্রী এমন একটি পোড়োবাড়িতে বাস করছেন কেন? বাইরে যারা খেলা করছিল, সেই শিশুরাই বা কারা?
লাবণ্য মৃদু হেসে বললেন, ‘সব কথা কি এখানে দাঁড়িয়েই শুনবেন সুভাষবাবু? ভেতরে আসুন। আসুন মা।’
ভিতরে ঢুকে সুভাষ আরও অবাক হলেন। ঘরটি শুধু নিরাভরণ নয়, সম্পূর্ণ আসবাববিহীনও বটে। এতটাই যে, বাসন্তী এবং সুভাষকে বসতে হল মাটিতে।
দ্রুত ভিতরে গিয়ে কিছু মিষ্টি আর জল নিয়ে এলেন লাবণ্যপ্রভা। তারপর তিনিও বসলেন তাঁদের সামনে মাটিতেই।
‘তুমি গোটা ব্যাপারটা ওকে একবার গুছিয়ে বল লাবণ্য,’ বললেন বাসন্তী দেবী।
লাবণ্য বললেন, ‘বলার মতো তেমন কিছু নেই। সেই যেবার রাজেন্দ্রপ্রসাদ পুরুলিয়ায় এলেন, সকলের সঙ্গে মিটিং করলেন, সেদিন দুপুরেই বাড়ি ফিরে এসে উনি বললেন— ওকালতি আর উনি করতে পারবেন না। এইবার সর্বস্ব পণ করে দেশের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় হয়েছে।’
সুভাষচন্দ্রের মুখে ফুটে ওঠা কোমল হাসির রেখা লাবণ্যর দৃষ্টি এড়াল না। তিনি বললেন, ‘আপনিও ঠিক এমনিভাবেই ফিরে এসেছিলেন বিলেত থেকে, পরীক্ষা না-দিয়েই। আমি জানি।’
‘আমার কথা থাক।’ সামান্য হাসলেন সুভাষ, ‘আপনাদের কথা বলুন। তাহলে— অতুলবাবু বিষয়কর্ম ত্যাগ করে বাড়ি ফিরে এলেন?’
‘একদম তাই!’ বললেন লাবণ্যপ্রভা, ‘প্রথমে তো শুনে বেজায় ভয় পেলাম। চারটি ছোটো ছোটো ছেলেমেয়ে নিয়ে ভরা সংসার আমার, আর এদিকে উনি বলছেন ওকালতি ছেড়ে দিয়ে এসেছেন! তাহলে আমার সংসারটা চলে কেমন করে, ছেলেমেয়েদের মানুষই বা করি কী করে!’
‘তারপর?’ বাসন্তী দেবী বললেন।
‘তারপর আর কী মা? উনি যখন এরকম বললেন, তখন আমার পথ কি আর আলাদা হতে পারে? সেই থেকে আমিও....।’
বাসন্তী বললেন, ‘শোনো সুভাষ, লাবণ্য আসলে নিজের মুখে বলতে লজ্জা পাচ্ছে। আমিই বলি বরং।’
অতুলবাবু তো বিষয়কর্ম ত্যাগ করে দেশের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলে স্থির করলেন। অন্য কোনো মেয়ে হলে বোধহয় কেঁদে ভাসাত।’ বলে চললেন বাসন্তী, ‘লাবণ্য আমাদের অন্য ধাতুতে তৈরি। সে বললে— আপনি যদি দেশের জন্য কর্ম ছাড়তে পারেন, আমি দেশের কর্ম করব না কেন? আজ থেকে আমি আপনার সহযোদ্ধা।’
প্রকৃত বিস্ময়ে সুভাষের চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেল, ‘অর্থাৎ এই সিদ্ধান্ত আপনি স্বয়ং নিয়েছেন?’
‘অবশ্যই!’ লাবণ্যপ্রভা এবার সরাসরি তাকালেন সুভাষের বিস্মিত চোখের দিকে, ‘মনে হয়েছিল, উনি এতবড়ো ঝুঁকি নেবেন দেশের জন্য, আর আমি ঘরে বসে সন্তানপালন করব— এমনটি তো হতে পারে না! আমারও দেশের প্রতি কিছু কর্তব্য আছে! দেশ যতখানি ওঁর, ততখানিই আমার। ওঁর মতো আমারও দুঃখ আছে, যন্ত্রণা আছে— আমাদের দেশ পরাধীন!’
সুভাষ অভিভূত হয়ে বসে রইলেন। একটু আগেই যে গৃহবধূ সযত্নে তাঁদের বসার ব্যবস্থা করছিলেন, জল-মিষ্টান্ন নিয়ে আসছিলেন, এইবার যেন তাঁর ইস্পাত-দৃঢ় অন্তঃকরণের অন্দরমহল অবারিত হচ্ছে ধীরে ধীরে। ইনি সাধারণ কোনো নারী নন! এক প্রকৃত সিংহী!
লাবণ্য বলে চললেন, ‘এদিকে নিবারণচন্দ্র নিজেও তখন চাকরি ছেড়েছেন। পেনশনটি পর্যন্ত নেননি।’
সুভাষ বললেন, ‘নিবারণবাবু তো পুরুলিয়া জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন, তাই না?’
লাবণ্য কপালে একবার হাত ঠেকিয়ে বললেন, ‘নিবারণবাবু যেন অন্য পৃথিবীর মানুষ। তাঁরও তো তখন পাঁচটি সন্তান। সরকারি চাকরি ত্যাগ করে একেবারে পথের ভিখারি হয়ে দেশের কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়া... সাক্ষাৎ ঈশ্বর!’
‘নিবারণবাবু তখন কোথায় থাকছিলেন?’ জিজ্ঞাসা করলেন সুভাষ।
‘প্রথমে উঠেছিলেন উপেনবাবুর বাড়িতে,’ বললেন লাবণ্য, ‘তারপর স্টেশনের সামনে একটা দোচালা খোলার বাড়িতে কিছুদিন ছিলেন। সেখান থেকে এলেন নীলকুঠিডাঙার বাড়িতে।’
‘শিল্পাশ্রম নামটা তো তখনই হল, তাই না লাবণ্য?’ বাসন্তী এবার প্রশ্ন করলেন।
‘হ্যাঁ মা। ওই বাড়িতেই প্রথম আমরা দুই পরিবার একসঙ্গে থাকতে আরম্ভ করলাম। তখনই নাম দেওয়া হল ‘শিল্পাশ্রম।’ তারপর সেখান থেকে সকলে মিলে উঠে এলাম এই বাড়িতে। এখন এটাকেই সকলে শিল্পাশ্রম বলে।’
এই সেই শিল্পাশ্রম! পুরুলিয়ার যাবতীয় আন্দোলনের কেন্দ্র!
সুভাষ বিস্মিত দৃষ্টিতে আরও একবার চারদিকে তাকালেন। এই বাড়িটির অবস্থা ভালো নয়। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হয়নি বহুদিন। তারই মধ্যে দু’টি বিত্তহীন পরিবার তাঁদের নয়টি সন্তান নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন শুধু দেশের পরাধীনতা মোচন করবেন বলে। সকল আত্মসুখ, সব স্বাচ্ছন্দ্য এঁরা ত্যাগ করেছেন অনায়াসে। সন্তানদের ভবিষ্যতের পরোয়া করেননি।
একটা নিঃশ্বাস ফেলে সুভাষ বললেন, ‘আমার নমস্কার গ্রহণ করুন, লাবণ্যপ্রভা। যেদিন সারা দেশের মানুষ আপনাদের মতো বিপুল আত্মত্যাগ করবে নিঃশব্দে, সেইদিন ঘটবে প্রকৃত জাগরণ। আর এই বিশাল দেশ, এই প্রাচীন সভ্যতার দেশ জেগে উঠলে তাকে পরাধীন করে রাখে— ইংরেজের এমন সাধ্য কী?’
লাবণ্য অবাক হয়ে দেখলেন, সুভাষের চোখের কোলে জল চিকচিক করছে প্রদীপের ম্লান আলো পড়ে।
বাসন্তী এবার উঠে পড়লেন, ‘না বাছা, তুমি এবার রান্না বসাও। রাত হল, ছেলেমেয়েরা খাবে। আমরাও আসি। আর শোনো, কাল সকালে কারও হাত দিয়ে কিছু বাজার পাঠিয়ে দেব। না করবে না যেন। লাবণ্যময়ী বেঁচে থাকলে তো এত চিন্তা থাকত না, এখন তোমার উপরেই এতগুলি ছেলেমেয়ের ভার।’ সুভাষের দিকে তাকিয়ে তিনি যোগ করলেন, ‘লাবণ্যময়ী মানে নিবারণবাবুর স্ত্রী। বহুকাল আগেই পরলোকে গেছে সে।’
লাবণ্যপ্রভা হেসে বললেন, ‘আরও বহু ছেলেমেয়ে সারাক্ষণ যাতায়াত করছে মা। আপনি চিন্তা করবেন না।’
বাসন্তী হাসলেন না। গাঢ় দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ লাবণ্যপ্রভার উজ্জ্বল দৃঢ় মুখের দিকে চেয়ে থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করার সুরে বললেন, ‘এই আমি বলে গেলুম— মানভূমের সকল সুসন্তান একদিন তোমাকে তাদের মা বলে চিনে নেবে। আসি। এসো সুভাষ।’
মুহূর্তের জন্য সুভাষচন্দ্র অনুভব করলেন, এই মাতৃমূর্তি রমণীকে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু নাটকীয় কিছু করে ওঠা তাঁর স্বভাব নয়। ইচ্ছাটিকে প্রাণপণে দমন করে আবার হাত জোড় করে নমস্কার জানিয়ে শিল্পাশ্রম ছেড়ে বেরিয়ে এলেন সুভাষচন্দ্র।
....
বাসন্তী দেবীর ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা হয়নি। লাবণ্যপ্রভা প্রথমে লড়াই করেছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে, যাতে তাঁর দেশ স্বাধীন হয়। তারপর স্বাধীন দেশেও লড়াই করতে হয়েছিল তাঁকে, যাতে বাঙালি-প্রধান পুরুলিয়া জেলা পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয়।
আর সেই কারণেই আজও সমস্ত পুরুলিয়া তাঁকে মনে রেখেছে ‘মানভূম জননী’ হিসাবে।
আজও তিনিই ‘পুরুলিয়ার মা।’