


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভেঙেছে পুরনো নহবত। এখন যাত্রাপালার আসরও বসে না। তবে রীতি মেনে পুতুল নাচ হয়। কারণ, রাধাগোবিন্দ স্বয়ং ভক্তদের সঙ্গে বসে পুতুল নাচ উপভোগ করেন। ১২৮ বছর ধরে রাসযাত্রার কিছু পুরনো রীতি এভাবে বয়ে নিয়ে চলেছে হাওড়ার ঘোষ পরিবার। রাসযাত্রার সময় মেলাও বসে।
হাওড়ার প্রিয়নাথ ঘোষ লেনের ঘোয় বাড়ি মূলত রাসবাড়ি হিসেবে পরিচিত। এই বংশের পূর্বপুরুষ প্রিয়নাথ ঘোষ বাগুইয়ের হাত ধরে শুরু হয়েছিল রাসযাত্রা। ১৮৯৭ সালে রাস পূর্ণিমার দিন উৎসবের সূচনা করেছিলেন। শোনা যায়, স্বপ্নাদেশে রাধাগোবিন্দকে কুলদেবতা হিসেবে পেয়েছিলেন প্রিয়নাথবাবু। তারপর বাড়িতেই নিত্যপুজো রাধাগোবিন্দের। কালীপুজোর পর শুরু হয় রাসের প্রস্তুতি। ঘোষ পরিবার জানিয়েছে, রাসের সময় রাধাগোবিন্দ’র জন্য তিল, ক্ষীর ও নারকেলের নাড়ু করতে হয়। বাড়ির মহিলারা নৈবেদ্য সাজান। দূরদূরান্ত থেকে এসে ভিড় করেন ভক্তরা। পূর্ণিমা থেকে পরপর চারদিন বাড়িতে বসে পুতুল নাচের আসর। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাহিনি, রামায়ণ, মহাভারত, বনবাসী রূপবানের মতো নৃত্যকাহিনি ফুটিয়ে তোলা হয় পুতুল নাচের মাধ্যমে। মাটি, কাঠ, শোলার মত উপকরণ দিয়ে চরিত্র সাজানো হয় পুতুলগুলির। গানের সুরে, বাদ্যযন্ত্রের তালে নাচ হয়। পুতুল সাজানো, নাটমন্দির রং করা, আলো দিয়ে সাজিয়ে তোলা, মণ্ডপ সাজানো, ইত্যাদি কাজ করে পরিবারের সদস্যরাই। এ বাড়ির বর্তমান সদস্য লোকেন ঘোষ বলেন, ‘চারদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ন›টা পর্যন্ত হয় পুতুল নাচ। এসময় ঠাকুরকে নাটমন্দির থেকে বের করে রাসমঞ্চে নিয়ে আসা হয়। ঠাকুর ভক্তদের সঙ্গে বসে পুতুল নাচ দেখেন।’ জানা গিয়েছে, ঘোষবাড়ির রাসযাত্রা ছিল একসময়ের গোটা এলাকার দ্রষ্টব্য। নহবতখানায় এসময় রোজ বাজত সানাই। বিভিন্ন জায়গা থেকে নামকরা যাত্রাপালা আসত অভিনয় করতে। দশবছর হল এসব বন্ধ। তবুও ঘোষবাড়ির রাসযাত্রা ঘিরে এখনও মেলা বসে। বিভিন্ন দোকান বসে। জমজমাট হযয়ে ওঠে শীত শুরুর মেলা। নিজস্ব চিত্র