


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ‘পাপ্পু’ খোঁচা আর নয়! বরং বিল পাশের জন্য বারংবার রাহুল গান্ধীরই সমর্থন চাইছে শক্তিমান মোদি সরকার। বিগত ১২ বছরে এমন পরিস্থিতি ছিল বিরল। কিন্তু এখন সেটাই নিয়মিত হয়ে চলেছে। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আপাত তরজার আড়ালে মোদি সরকারের সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু আবারও অনুরোধ করলেন রাহুল গান্ধীকে—মহিলা সংরক্ষণ বিলকে যেন সমর্থন করে কংগ্রেস। গত সপ্তাহেই লোকসভার বিরোধী দলনেতার সঙ্গে সংসদ ভবনে পৃথকভাবে দেখা করেছিলেন তিনি। চেষ্টা করেছিলেন সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি নিয়ে কংগ্রেস ও বিরোধীদের মন বোঝার। কিন্তু রাহুল সেদিন সরাসরি বলেছিলেন, বিতর্কিত বিলে তাঁরা সমর্থন দেবেন না। শনিবারও তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, মহিলা সংরক্ষণ বিল আগেই পাশ হয়ে গিয়েছে। এখন সমর্থন দেওয়ার কিছু নেই। বরং সরকার এখনই ওই আইন কার্যকর করুক। বিলম্ব কীসের?
সংবিধান সংশোধনী কোনো বিল পাশ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা যে তাঁদের কাছে নেই, সেটা পুরোপুরি বুঝে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ। আর তাই সংসদ ভবনের চরম ব্যস্ততা সত্ত্বেও কখনো স্বীকৃতিহীন এনসিপিআই, কখনো একনাথ সিন্ধের শিবসেনার এমপিদের সঙ্গে ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চ করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে। আবার কখনো একজন মাত্র এমপি থাকা শিরোমণি অকালি দলের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আহ্বান জানাচ্ছেন এনডিএতে আসার জন্য।
শুক্রবারই সোশ্যাল মিডিয়ায় নারীদের মতপ্রকাশের অধিকারের সপক্ষে সরব হয়েছিলেন রাহুল। বলেছিলেন, ‘সমাজে নারীদের আরও শক্তি ও অধিকার না দিলে অগ্রগতি অসম্ভব।’ তা ‘রিপোস্ট’ করে রিজিজু লেখেন, ‘মনে হয় নারী অধিকার নিয়ে রাহুল গান্ধীর হৃদয় পরিবর্তন হয়েছে। এটা ইতিবাচক। এখন আমি আশা করব, কংগ্রেস শর্তহীনভাবে মহিলা সংরক্ষণ বিলটি সমর্থন করবে।’ কটাক্ষের সুর হলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ঘুরেফিরে বিলে সমর্থনই চাইলেন। রিজিজুর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর, সোশ্যাল মিডিয়াতেই রাহুল নাকচ করে দেন ওই আবেদন। সাফ জানালেন, মহিলা সংরক্ষণ আইন ২০২৩ সালেই পাশ হয়ে গিয়েছে সংসদে। সেই আইন এখনও চালু হয়নি কেন? এখনই চালু করুন। একই সুরে ইন্ডিয়া জোটের অন্য শরিকদেরও বক্তব্য, সরকারপক্ষ মানুষকে এখনও বোকা ভাবে। আরজেডি এমপি মনোজ কুমার ঝা বলেন, ‘২০২৩ সালে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন করে, বিশেষ অধিবেশন ডেকে ধুমধাম করে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। আর তিন বছরের মধ্যে আবার নিজেদের আনা আইনে সংশোধনী আনছেন। আসলে ঘুরপথে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী ডিলিমিটেশনের রাস্তা খোলার জন্য মহিলা সংরক্ষণ আইনকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষকে আর বিভ্রান্ত করবেন না।’
বাদল অধিবেশনের গোটা পর্বেই সরকারপক্ষ ব্যাকফুটে। রামমন্দিরে চুরি, জেন জি আন্দোলন, বহু টালবাহানার পর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং যন্তরমন্তরে পুলিশি দমনপীড়নের ইস্যুতে সংসদে অচলাবস্থা চলছে। তার অবসান করতে পারছে না সরকার। সর্বোপরি একের পর এক অপারেশন লোটাসের পরও দুই তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হয়েছেন মোদি-শাহ। আপাতত মুখরক্ষার মরিয়া চেষ্টার হাতিয়ার ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন বিল পাশ করানো। হাতে আছে আগামী সপ্তাহের কয়েকদিন। বাদল অধিবেশনের শেষতম সংসদীয় লড়াই এই বিলকে ঘিরেই।