


সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল কি এবার সত্যিই রেল মানচিত্রে? আশার আলো দেখাচ্ছে মেগা রেল বাজেট। কয়েক দশকের অপেক্ষা কি এবার ফুরোতে চলেছে? রেলের ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের ‘কনসলিডেটেড বাজেট স্টেটমেন্ট’ বা সংহত বাজেট বিবরণী খতিয়ে দেখলে কিন্তু সেই আশাই প্রবল হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতীয় রেলওয়ের ওয়েব সাইটে আপলোড করা ‘কনসলিডেটেড বাজেট স্টেটমেন্ট’ পিডিএফ ফাইলে উল্লেখ করা বেশ কিছু তথ্যের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব রেলের একাধিক প্রকল্পের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, তার এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ঘাটাল মহকুমার সংযোগকারী নয়া রেলপথের পরিকল্পনা। ঘাটাল মহকুমাকে রেলওয়ে মানচিত্রে যুক্ত করার জন্য ‘বিদ্যাসাগর রেলপথ মিশন’ কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে। ওই মিশনের সম্পাদক প্রসেনজিৎ কাপাস বলেন, আমরাও রেলওয়ে ওয়েবসাইটে পুরো পিডিএফটি ডাউনলোড করে পড়েছি। আমাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন যে বাস্তবায়িত হতে চলেছে এটা ভেবে খুব খুশি আমরা।
রেল বাজেটের কারিগরি ভাষায় ‘কনসলিডেটেড বাজেট স্টেটমেন্ট’ হল এমন এক বার্ষিক খতিয়ান, যেখানে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পের মোট বরাদ্দ, ঋণের উৎস ও ব্যয়ের খাতগুলি সবিস্তারে জানানো হয়। এই বাজেটে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অধীনে পাঁশকুড়া থেকে খড়গপুর পর্যন্ত ৪৪ কিলোমিটার ৭০০ মিটার দীর্ঘ তৃতীয় লাইনের কাজের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মেটেরিয়াল মডিফিকেশন’ যুক্ত হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই পাঁশকুড়া থেকে ঘাটাল পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার ৮০০ মিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথের সংস্থান রাখা হয়েছে। ওই দুই প্রকল্পের জন্য মোট ৪২৯কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। অন্যদিকে, পূর্ব রেলের প্রকল্প তালিকায় তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর নতুন লাইনের যে সবিস্তার খতিয়ান মিলেছে, সেখানেও ঘাটালের উল্লেখ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই প্রকল্পের অধীনে তারকেশ্বর থেকে বিষ্ণুপুর সংযোগের পাশাপাশি ধনেখালি পর্যন্ত সম্প্রসারণ, ইড়পালা থেকে ঘাটাল ১১ কিলোমিটার ২০০ মিটার রেলপথের কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে থাকছে আরামবাগ থেকে চাঁপাডাঙা ও বিষ্ণুপুর থেকে উপারসোল পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন। এই সামগ্রিক গুচ্ছ প্রকল্পের জন্য বাজেটে ২,৫৩২ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। এর সিংহভাগ টাকাই আসছে রেলের নিজস্ব মূলধনী তহবিল থেকে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে এই বাজেট বরাদ্দের বিশেষত্ব হল ‘মেটেরিয়াল মডিফিকেশন’। প্রযুক্তিগতভাবে এর অর্থ হল, পুরনো কোনও প্রকল্পের নকশায় বড়সড় পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন কোনও রুট বা এলাকাকে তার অন্তর্ভুক্ত করা। অর্থাৎ, আগে যে লাইনগুলি শুধুমাত্র পাঁশকুড়া বা আরামবাগে থমকে ছিল, এখন সেই পরিকল্পনা সরাসরি ঘাটাল শহরকে ছোঁয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এই দুই মেগা প্রকল্পের মেলবন্ধনে ঘাটাল যে আগামী দিনে দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব রেলের এক গুরুত্বপূর্ণ জংশন পয়েন্ট হিসেবে উঠে আসতে পারে, সেই সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হচ্ছে। রেলের এই বিপুল বিনিয়োগের অংক অন্তত সেই লক্ষ্যেই ইঙ্গিত করছে।