


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রবিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় আলু চাষিরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন। এখন আলু গাছ শুকিয়ে গিয়েছে। আলু তোলার কাজও শুরু হয়েছে। জমিতে জল জমে যাওয়ায় সেই আলু ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জল জমে থাকলে তা পচে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আলু তোলার কাজও পিছিয়ে যেতে পারে বলে চাষিরা আশঙ্কা করছেন। তাঁরা বলেন, দাম না থাকায় জমি থেকে অনেকেই আলু তোলেননি। গাছ শুকিয়ে যাওয়ার পর জমিতে জল জমে গেলে আলুর ক্ষতি হবেই। এমনিতেই জলের দরে তা বিক্রি হচ্ছে। তারপর তা পচে গেলে আরও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এদিন সন্ধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। সঙ্গে বৃষ্টি নামে। ঝড়ের দাপটে বেশ কয়েকটি জায়গায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গোলাপবাগে গাছ ভেঙে পড়ে। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা ভেঙে পড়া গাছের ডাল সরিয়ে দেন। পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকাতেও ঝোড়ো হাওয়া সহ বৃষ্টি হয়। এদিকে এদিনই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে পড়ে এক মহিলার মৃত্যু হয়। ঘটনায় গুরুতর জখম হন এক গাড়িচালক। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে নদীয়ার তাহেরপুর থানা এলাকার বাদকুল্লা গাংনি এলাকায়। সূত্রের খবর এদিন কালবৈশাখী দাপট শুরু হতেই রাস্তার ধারে একটি গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ওই মহিলার মৃত্যু হয়।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, ক্ষতির রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। তবে, আলু এবং পেঁয়াজের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলু চাষি শেখ সামাইল বলেন, ছ’বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। দাম না থাকায় খরচ উঠে আসছে না। এরপর বৃষ্টিতে আরও সমস্যা বাড়ল। সোমবার যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে ক্ষতি সামাল দেওয়া যাবে না। চাষিরা জমি থেকে আলু তুলতেই চাইবেন না। সোমবার মাঠে না যাওয়া পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ বোঝা যাবে না।
আচমকা ব্যাপক ঝড় বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরুলিয়ার একাধিক এলাকা। কোথাও গাছ পড়ে গিয়েছে। কোথাও আবার বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গিয়েছে। শহরের একাধিক এলাকায় যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, জেলার অন্যান্য প্রান্তেও এদিন ব্যাপক ঝড় বৃষ্টি হয়। ঝালদা ও মানবাজারে শিলাবৃষ্টিও হয়। ঝালদা শহরের রাস্তার উপর জল জমে যায়। অযোধ্যা পাহাড় এবং বাগমুণ্ডির একাধিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকা কাঁথি, দীঘা, মন্দারমণিতে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হয়। তবে, তমলুক ও কোলাঘাটে বৃষ্টি হয়নি।
আরামবাগেও ঝড়-বৃষ্টির জন্য দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিং হয়। বাঁকুড়া জেলাতেও সন্ধ্যার দিকে ঝড়বৃষ্টি হয়। বিষ্ণুপুর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাদাকুলি মহাপাত্র পাড়ায় পিন্টু রায় নামে এক ব্যক্তির বাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায়। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়ির অ্যাসবেসটসের ছাউনি উড়ে যায়। বিষ্ণুপুর-সোনামুখি রাস্তায় দ্বারিকায় গাছ পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। গোঘাটের কামারপুকুরে একটি বাঁশের তোরণ ভেঙে পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে সেগুলি সরালে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের আকাশে বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হয়। ছিটেফোঁটা বৃষ্টিও হয়েছে। তবে, ঝড় হয়নি। কান্দি মহকুমা এলাকাজুড়েও বৃষ্টি হয়। বড়ঞা, ভরতপুর, সালার খড়গ্রাম সব জায়গাতেই হালকা বৃষ্টি হয়েছে। বীরভূমের রামপুরহাট সহ কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। চাষিরা বলেন, যেসব এলাকায় ধান চাষ হয়েছে, সেখানে বৃষ্টিতে লাভ হবে। তবে, গমের জমির পক্ষে ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টি ক্ষতিকারক। বহু জায়গায় আম ঝড়ে গিয়েছে।