


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সামনেই দুর্গাপুজো। কিন্তু জলপাইগুড়িতে শক্তিপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল! প্রতিবারের মতো এবারও কালীপুজোয় নয়া চমক নিয়ে হাজির হতে চলেছে জলপাইগুড়ির নবারুণ সঙ্ঘ ক্লাব ও পাঠাগার। এবছর তাদের বিশেষ আকর্ষণ তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম মন্দির। বুধবার গণেশ চতুর্থীতে ক্লাব প্রাঙ্গনে জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় পুজোর থিম। সেইসঙ্গে এদিন ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হয় খুঁটিপুজো। মা কালীর বিগ্রহ এনে হোমযজ্ঞ করে চলে পুজো। নবারুণ সঙ্ঘের এবারের খুঁটিপুজোয় বাড়তি পাওনা ছিল কলকাতা থেকে আসা মহিলা ঢাকির দল।
সারা বছর ধরে এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে নবারুণ সঙ্ঘ। এদিনও খুঁটিপুজো শেষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের হাতে তুলে দেওয়া হয় হুইল চেয়ার। বিতরণ করা হয় ফলের চারা। শুধু ক্লাবের সদস্যরা নন, খুঁটিপুজোয় শামিল হয়েছিলেন জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন গোমস্তাপাড়া সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। পুজো শেষে তাঁদের জন্য ছিল খিচুড়ি ভোগের আয়োজন।
ক্লাব সম্পাদক রাজেশ মণ্ডল বলেন, নবারুণ সঙ্ঘ মানেই নব ভাবনা, নব চেতনা ও নব নির্মাণ। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে ফি বছর কালীপুজোর থিম নির্বাচন করি আমরা। এরআগে আমরা দুবাইয়ের বিখ্যাত বুর্জ খলিফা করেছি। যা শুধু জলপাইগুড়িবাসী নয়, গোটা উত্তরবঙ্গের মানুষের মন কেড়েছে। এছাড়াও উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ ধাম, অসমের কামাখ্যা মন্দির কিংবা গতবছর পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ করে উচ্চ প্রশংসিত হয়েছি আমরা। এবার কালীপুজোয় আমাদের থিম তামিলনাড়ুর রামনাথপুরম জেলার রামনাথস্বামী মন্দির, যা সকলের কাছে রামেশ্বরম মন্দির নামে পরিচিত। রাজেশ বলেন, মূল মন্দিরের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে তৈরি করা হবে গোপুরম। থাকবে সুসজ্জিত মন্দিরের তিনশো ফুট লম্বা করিডর, রামনাথস্বামী এবং পর্বতবর্ধিনী মাতার মন্দির। সঙ্গে মন্দিরের গায়ে ক্যানভাসে আঁকা থাকবে পৌরাণিক চিত্রকলা। দ্রাবিড় সংস্কৃতির সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করানোর প্রয়াসেই এই উদ্যোগ। মণ্ডপ তৈরি থেকে চিত্রকলা সবটাই করবেন ক্লাব সদস্যদের পাশাপাশি জলপাইগুড়ির শিল্পীরা।
রামেশ্বরম মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপের উচ্চতা হবে ৬৫ ফুট। ঠিক যেমনটি রামনাথস্বামী মন্দিরে দেখতে পাওয়া যায়, একইরকমভাবে মণ্ডপের ভিতরে তৈরি হবে ৩০০ ফুট লম্বা করিডর। সবমিলিয়ে বাজেট কত? ক্লাব সম্পাদক রাজেশ মণ্ডল বলেন, পুজোর আয়োজনের সবটা আমরা নিজেরাই করে থাকি। সেকারণে বাজেট বলা মুশকিল। তবে ৫০ লক্ষ টাকা বাজেট ধরে এগনো হচ্ছে। হয়তো সেটা ছাড়িয়ে যাবে। তাঁর দাবি, মণ্ডপসজ্জা থেকে পুজো উদ্বোধন সবেতেই চমক থাকবে। সেইসঙ্গে আমরা সারাবছর ধরে যে সামাজিক কাজ করে থাকি, তা বড় পরিসরে হয়ে থাকে কালীপুজোয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। কারণ এই পুজো শুধু নবারুণ সঙ্ঘ ক্লাব ও পাঠাগারের পুজো নয়। এটা পাড়ার সবার পুজো। সমস্ত ধর্মের উৎসব পালনের মাধ্যমে এলাকায় সম্প্রীতি বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
নিজস্ব চিত্র।