


নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে সবে গজিয়ে উঠেছিল মধুচক্র। রানাঘাটের থানাপাড়ায় শ্মশান লাগোয়া একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে শুরু হয়েছিল দেহব্যবসা। খবর পেয়ে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বেআইনি কর্মকাণ্ডের পর্দা ফাঁস করলেন রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে রানাঘাট থানার পুলিস। তারাই ওই বাড়ি থেকে তিন মহিলা সহ এক পুরুষকে গ্রেপ্তার করে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রানাঘাট পুরসভার ১০নম্বর ওয়ার্ডের থানাপাড়ায় শ্মশানের কাছে চার-পাঁচদিন আগে একটি বাড়ির নীচের তলার চারটি ঘর ভাড়া নেওয়া হয়। রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে খবর আসে, ভাড়া ঘরে প্রতিরাতে বসছে মধুচক্রের আসর। বাইরে থেকে রাতবিরেতে লোকজনের আনাগোনা চলছে। সেইমতো মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে হানা দেন পুরসভার চেয়ারম্যান। তিনি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। তিনি বলেন, এলাকার পরিবেশ নষ্ট করতে অসামাজিক কাজের আসর বসেছিল। বেশ কয়েকজন মহিলা মিলে সেই ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। আমরা এলাকার বাসিন্দারা একসঙ্গে গিয়ে তা বন্ধ করার চেষ্টা করেছি। যারা এই অসামাজিক কাজ চালাচ্ছিল, তাদের পুলিসের হাতে তুলে দিয়েছি। না হলে গণপিটুনির ঘটনাও ঘটতে পারত। আশা করছি, পুলিস এই বিষয়গুলি নিয়ে সক্রিয় হবে। এর আগেও চৌরঙ্গী এলাকায় এই ধরনের অসাধু কাজ চলত। নতুন করে আমার ওয়ার্ডে তা ফের গজিয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিখা সরকার বলেন, ভিতরে কী চলছিল, তা তো আমরা বুঝতে পারিনি। কিন্তু রাতে লোকজনের আনাগোনা চলত। পরে জানলাম, এখানে অসামাজিক কাজকর্ম চলছে। এর ঠিক পাশের বাড়িটিই আমার। এলাকার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছিল। চেয়ারম্যান আর পাড়ার কয়েকজন এসে এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর শুরু করায় গোটা বিষয়টি জানতে পারি।
ঘটনার খবর পেয়েই ওই বাড়ি থেকে তিন মহিলা ও একজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করে রানাঘাট থানার পুলিস। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া মহিলাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে এর আগেও এই ধরনের অসাধু কাজকর্ম চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। সে মাঝে বেপাত্তা ছিল। তবে দিন তিনেক আগে সে ও তার সঙ্গে থাকা দুই মহিলা থানাপাড়ায় বাড়ি ভাড়া নেয়। এর মধ্যে একজন স্থানীয় হলেও বাকি দু’জন বনগাঁ এবং শ্যামনগরের বাসিন্দা।