


সংবাদদাতা, লালবাগ: পাঁচ বছরের শিশুর ভোটার তালিকা থেকে নাম ডিলিট! আর সেই কারণেই রেশন সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে না ওই শিশুর কার্ডে। বিডিও অফিস থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে বলে দাবি শিশুর মায়ের। বিষয়টি জানাজানি হতেই রীতিমতো শোরগোল পড়েছে ভগবানগোলাজুড়ে। সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও কেন শিশুটি সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে প্রশ্ন তুলেছে তার পরিবার। পাশাপাশি সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে শিশুটির রেশন চালু করার আবেদন জানিয়েছে পরিবার। ভগবানগোলা-১ ব্লক খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ দপ্তর থেকে খুব শীঘ্রই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ভগবানগোলা থানার হাবাসপুর পঞ্চায়েতের খোজারপাড়া মহতপুরের বাসিন্দা মুরসেলিম শেখের দুই মেয়ে। বড় মেয়ে রুনা খাতুন। গত দুই মাস ধরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রেশন সামগ্রী পেলেও রুনা পাচ্ছে না। রুনা রেশন সামগ্রী কেন পাচ্ছে না, তা রেশন ডিলারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিডিও অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। রুনার মা সাবিনা বিবি বৃহস্পতিবার ভগবানগোলা-১ বিডিও অফিসে যান। সেখানে রেশন কার্ড যাচাই করে জানানো হয়, ভোটার তালিকা থেকে রুনার নাম ডিলিট দেখাচ্ছে। সেই কারণে রেশন বন্ধ হয়েছে। যদিও রুনার বয়স জানার পরেই রীতিমতো হতবাক বিডিও অফিসের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা। রুনার মা সাবিনা খাতুন বলেন, পরিবারের পাঁচজন সদস্য। গত দুই মাস ধরে রুনা বাদে চারজনের রেশন সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। প্রথম মাসে গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু চলতি মাসেও না দেওয়ায় রেশন ডিলারের পরামর্শে বিডিও অফিসে যাই। সেখানে কম্পিউটারে যাচাই করে ভোটার তালিকা থেকে নাম ডিলিটের বিষয়টি জানানো হয়। আমার মেয়ের তথ্যগত ত্রুটি সংশোধন করে দ্রুত রেশন সামগ্রী দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হোক। রেশন ডিলার শেফালি পোদ্দার বলেন, গত দুই মাস ধরে রুনা খাতুন নামে বাচ্চাটির রেশন বন্ধ রয়েছে। রেশন দিতে গিয়ে ওই পরিবারের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তবে কেন বন্ধ করা হয়েছে সেই বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। সেই কারণে বিডিও অফিসে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেছি। ভগবানগোলা-১ ব্লক খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ আধিকারিক বুদ্ধদেব সরকার বলেন, পাঁচ বছরের বাচ্চার ভোটার তালিকায় নাম আসার কথাই নয়। কারণ ১৮ বছরের কমে ভোটার কার্ড হয় না। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। সেই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব বাচ্চাটির রেশন চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করব।