


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘মন-থা’ মঙ্গলবার উত্তর অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে স্থলভূমিতে ঢুকে পড়ার পর আগামী দিনতিনেক রাজ্যের উপর এর প্রভাব থাকবে। ঘূর্ণিঝড় ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়লেও এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হবে। ইতিমধ্যে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। বিশেষ করে হিমালয় লাগোয়া উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি নিয়ে উদ্বিগ্ন আবহাওয়াবিদরা। ইতিমধ্যে সেখানে শুক্রবার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, তাঁরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। সেরকম হলে উত্তরবঙ্গের পাহাড় লাগোয়া এলাকার জন্য ‘লাল’ সতর্কতাও জারি করা হতে পারে।
রাজ্যের উপর ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মঙ্গলবার ছুটির দিন নবান্নে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। কৃষি, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা, সেচসহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা ছাড়াও জেলাশাসকরা ভিভিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। উত্তরবঙ্গের হিমালয় লাগোয়া এলাকাগুলি নিয়ে রাজ্য সরকার যে উদ্বিগ্ন, তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একমাসও হয়নি ওই এলাকায় অতিবৃষ্টিতে বিপর্যয় হয়েছে। তারপর জোর কদমে সংস্কার ও মেরামতির কাজ চলছে সেখানে। পুনর্গঠনের কাজ নতুন বিপর্যয়ে যাতে ফের ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে না পড়ে সেদিকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফের উত্তরবঙ্গে অতিবৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় সেখানকার জেলাশাসকদের সতর্ক থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে নবান্ন। বিভিন্ন বাঁধের জলস্তরের উপর সতর্ক নজর রাখবে সেচদপ্তর। অতিবৃষ্টিতে মাঠে থাকা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় কৃষিদপ্তর থেকে চাষিদের জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হবে। বৃষ্টি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ৩০-৩১ অক্টোবর চাষিদের ধান না-কাটার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষিদপ্তর। কারণ বৃষ্টিতে কাটা ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার আগে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের কিছু জায়গায়, বিশেষ করে উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় বৃষ্টি ও তার সঙ্গে কিছুটা জোরালো হাওয়া শুরু হয়। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনার কয়েকটি জায়গায় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৩০ মিমির আশপাশে বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি পরিমাণে জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে ঢুকে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হওয়াতেই এই বৃষ্টি হচ্ছে। বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে কোনও কোনও জায়গায় জোরে হাওয়া বইছে। কলকাতা ও লাগোয়া এলাকায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি বেশি হয়নি। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এরকম পরিস্থিতি থাকবে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হবে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হয়ে যেতে পারে। উত্তরবঙ্গের হিমালয় লাগোয়া এলাকায় এরকম পরিস্থিতিতে বেশি বৃষ্টির হওয়ার ইতিবাচক পরিস্থিতি থাকে। কারণ জলীয় বাষ্প পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে শক্তিশালী বৃষ্টির মেঘ তৈরি করে। আবহাওয়া দপ্তর মনে করছে, মন-থা দুর্বল হওয়ার পর আগামী ৩০ তারিখ পর্যন্ত তার অবশিষ্টাংশ সুষ্পষ্ট নিম্নচাপ হিসেবে ছত্তিশগড়ের উপর থাকবে। তখন পর্যন্ত, এবং তারপর আরও দুর্বল হলেও সেটি এরাজ্যের উপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে। তার দরুন অধিক বৃষ্টিও হতে পারে। উত্তরবঙ্গে বেশি বৃষ্টি হবে ৩০-৩১ তারিখ।