


সংবাদদাতা, লালবাগ: রবিবার রেজিনগর থেকে লালগোলা পর্যন্ত সমস্ত ট্রেন পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্তে হয়রানির শিকার হলেন যাত্রীরা। পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের কৃষ্ণনগর-লালগোলার শাখার দেবগ্রাম ও পাগলচণ্ডী স্টেশনের মাঝে ৯২সি/ই রেলগেটের পাশে আন্ডারপাসের কাজের জন্য এদিন রেজিনগর থেকে লালগোলা সমস্ত ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় রেল। এই মর্মে শনিবার রেলের পক্ষ ট্রাফিক এবং পাওয়ার ব্লকের নোটিসও জারি করা হয়। নোটিসে বলা হয় এদিন সকাল ৯টা ৫০ থেকে বিকেল ৩টে ৫০ পর্যন্ত লালগোলা ও রেজিনগরের মধ্যে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকবে। রেলের এই নোটিসের পরেই মুর্শিদাবাদ জেলা রেলযাত্রী ফোরামের পক্ষ থেকে শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএমের কাছে রেজিনগর ও লালগোলার মধ্যে অন্তত চার থেকে পাঁচ জোড়া ট্রেন চালানোর আবেদন জানানো হয়। রেল ওই আবেদনকে মান্যতা দিয়ে এদিন এক জোড়া ট্রেন চালায়। তবুও অনেক যাত্রী আগাম এই খবর না জানায় তাঁরা ভোগন্তির শিকার হন।
এদিন ৬৩১০৪ ডাউন লালগোলা-রেজিনগর প্যাসেঞ্জার সকাল ১১টা ১৮ মিনিটে লালগোলা থেকে ছেড়ে যায়। অপরদিকে ৫৩১৭৫ আপ রেজিনগর-লালগোলা প্যাসেঞ্জার বিকেল ৪টে ২৬ মিনিটে রেজিনগর থেকে ছেড়ে আসে। মুর্শিদাবাদ জেলা রেলযাত্রী ফোরামের সম্পাদক আজমল হক বলেন, ট্রেন অন্যতম বড় গণ পরিবহণ। ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখলে বহু মানুষ ভোগান্তির শিকার হবেন। কারণ অনেকেই রেলের এই নোটিসের কথা জানেন না। যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টিকে সামনে রেখে ডিআরএমের কাছে কয়েক জোড়া ট্রেন চালানোর আবেদন করা হয়। কিন্তু, রেল মাত্র একজোড়া ট্রেন চালিয়েছে।
শিয়ালদহ-লালগোলা পূর্ব রেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এই শাখায় এক্সপ্রেস, মেমু এবং ইএমইউ মিলিয়ে প্রতিদিন ১৭ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন কাজে ট্রেনে কলকাতা, কৃষ্ণনগর সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে যান। আন্ডারপাসের কাজের জন্য এদিন ৬ ঘণ্টা পরিষেবা বন্ধ থাকায় বহু মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। অনেকে স্টেশনে এসে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে বাস, ট্রেকার বা টোটোয় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
বেলডাঙায় বোনের বাড়ি যাওয়ার জন্য স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে মুর্শিদাবাদ স্টেশনে এসেছিলেন নশিপুরের বিপ্লব মণ্ডল। স্টেশনে পৌঁছানোর পর জানতে পারেন ৬ ঘণ্টা ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। অগত্যা বিপ্লববাবু বাড়ি ফিরে যান। ট্রেনে ভগবানগোলা-বহরমপুর প্রতিদিন যাতাযাত করেন মাসুদ শেখ। বাধ্য হয়ে তাঁকে এদিন সড়ক পথে কর্মস্থলে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, হয়রানির পাশাপাশি বাড়তি টাকা খরচ হল।