


ওয়াশিংটন: ‘এক দশকেই পৃথিবীকে মানবশূন্য করে দেবে এআই।’ বিশ্বের শীর্ষ এআই সংস্থা অ্যানথ্রোপিক থেকে ইস্তফা দিয়ে এমনই ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন গবেষক জ্যাকব কক্সন। শনিবার প্রাক্তন সহকর্মীর সেই বার্তাতেই সিলমোহর দিলেন অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই। অকল্পনীয় গতিতে এআইয়ের বেড়ে ওঠার কথা স্বীকার করে তাঁর বক্তব্য, ‘এখনই সতর্ক হতে হবে। এআই নিয়ে অত্যাধুনিক গবেষণার গতি কমাতে হবে। যাতে মানুষ যথেষ্ট সময় পায়। আর এই ফাঁকে পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।’ অ্যানথ্রোপিকের সিইওর এই পরামর্শের সঙ্গে সহমত ওপেন এআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যানও এবং স্পেসএক্স তথা এক্সএআইয়ের প্রধান এলন মাস্ক। যা ভয় ধরিয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উলটো মন্তব্য, ‘নেতিবাচক শক্তিগুলি ভয় দেখাচ্ছে। এরকম কিছুতেই হবে না।’
মানুষের ইনপুট ছাড়া কোডিং ব্যবহার করে নিজেকে আরও আপডেট করে তুলছে এআই। সেল্ফ ডেভেলপমেন্টের এই প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অ্যানথ্রোপিকের পাশাপাশি ওপেন এআইয়ের প্রাক্তন গবেষক কক্সনের সতর্কবার্তায় সেই প্রসঙ্গই উঠে এসেছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিকের তৈরি ক্লড মডেলটি ওয়েবসাইট হ্যাক করে। এমনকি ওপেন এআইয়ের তৈরি কিছু মডেল ডেভেলপারদের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে একটি জার্মান ভাষার ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়ে। পুরো ওয়েবসাইটকে একটি মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে বদলে দেয়। কীভাবে সেফটি ওয়াল ভাঙা যায়, সেই সংক্রান্ত একাধিক কৌশলের বার্তাও ছড়িয়ে দেয়। এমন কাণ্ডকারখানার তালিকা দীর্ঘ। এরইসঙ্গে উঠে আসে সুপার হিউম্যান সিস্টেম, এজিআই বা আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে সাইবার হামলা, জৈব মারণাস্ত্র প্রয়োগের আশঙ্কাও।
তা নিয়েই অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেইয়ের মন্তব্য—দ্রুত সঠিক পথ ধরতে হবে। এআই নিয়ে গবেষণার গতি কমিয়ে এআইকে নিয়ন্ত্রণ করার সুরক্ষাবিধি নিয়ে আরও গভীরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। তবেই বিপদ এড়ানো সম্ভব। তাঁকে সমর্থন জানিয়ে অল্টম্যানের বার্তা, এআইয়ের বাড়বাড়ন্ত আটকাতে সংস্থা ও সরকার কীভাবে জোট বেঁধে কাজ করতে পারে, সেটা দেখতে হবে। একধাপ এগিয়ে এলন মাস্কের দাবি, ‘দারিও ঠিক বলেছেন। দীর্ঘদিন এনিয়ে সতর্ক করে চলেছি।’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই গতিতে লাগাম দেওয়াই লক্ষ্য। না হলে মানবজাতির ভবিষ্যৎ অতলে।