


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২৫০, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ। গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এই বাড়ির সামনে কোনোদিন কেউ পুলিশি পাহারা দেখেনি। দেখেনি পথ আটকে ব্যারিকেড। স্থানীয় লোকজন তো বটেই, পথ চলতি লোকেরাও সহজেই বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন। ফুটপাত লাগোয়া সদর দরজা শুধু রাত ছাড়া বন্ধ হয় না। আজ থেকে নয়, সেই কোন কাল থেকেই। রাজ্য রাজনীতিতে গিরিশ পার্কের এই পাঁজা হাউসের এক সময় গুরুত্ব ছিল অসীম। যতদিন বেঁচে ছিলেন, এখান থেকেই রাজনীতি সামলেছেন অজিত পাঁজা। যাঁর কাছে সকলের জন্য ছিল অবারিত দ্বার। আর শনিবার সেই পাঁজা-হাউসেই হামলা! বিজেপি-কর্মীরা সেখানে ভাঙচুর চালায়। ‘পাঁজা হাউস’ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় তাই বিরক্ত-ক্ষুব্ধ গিরিশ পার্ক-শ্যামপুকুর অঞ্চল। বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে অসন্তোষ এলাকায়।
শ্যামপুকুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বিধায়ক অজিত পাঁজার পুত্রবধূ শশী পাঁজা। এই বাড়িতেই নিয়মিত চলে তাঁর স্বামী ডাঃ প্রসূন পাঁজার চেম্বার। পার্টির লোকজন থেকে শুরু করে রোগী-সকলের অবারিত যাতায়াত। কিন্তু, ক্ষমতার অলিন্দে থাকলেও, ‘অহংকার’ কোনো দিনও স্পর্শ করতে পারেনি পাঁজা হাউসে। স্থানীয়রাও তাই বলছেন। মেট্রোর গেটের কাছেই বহুকাল ধরে পান-বিড়ি-সিগারেটের দোকান শ্যামল সাউয়ের। ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সবটা দেখেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘বাস বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছিল। বাস থেকে নেমেই বিজেপির লোকজন তৃণমূলের পোস্টার ছিঁড়ছিল। তখই ঝামেলা শুরু। কিন্তু ঝগড়া-ঝাটি এক বিষয়, বাড়ি ভাঙচুর অন্যরকম। একজন মন্ত্রীর বাড়িতে এভাবে কেউ ভাঙচুর করে! বেয়াদপি করেছে। ক্ষমতায় এলে তো হাতে মাথা কাটবে!’ চায়ের দোকানে চলছিল আড্ডা। লাগোয়া রাস্তায় কারও সেলুন, কারও কসমেটিকসের দোকান, কেউ বা গাড়ির ব্যাটারির ব্যবসা করেন, কারও আবার মুদিখানা। তাঁদের কথায়, ‘যা ঘটেছে এটা নোংরামো। জানালার কাঁচ ভাঙা, ইট ছুঁড়ে মারা, এসব মানা যায় না।’
গত লোকসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর বিধানসভায় প্রায় ১৫০০ ভোটে পিছিয়েছিল তৃণমূল। স্বাভাবিকভাবেই এই কেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু অবাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলে ওই দিনের ঘটনা বিজেপির জন্য বুমেরাং হল বলেই মনে করছে এলাকার নাগরিক মহল। তাঁদের দাবি, ‘ব্যক্তি’ শশী পাঁজার ইমেজই ভোট-ফ্যাক্টর। অঞ্চলের অবাঙালি ‘এলিট’ শ্রেণীর কাছেও তিনি পছন্দের। গিরিশ পার্ক অঞ্চলের বাসিন্দা এক অবাঙালি কাপড়ের ব্যবসায়ীর কথায়, এখানে ৭০ বছরের বাসিন্দা আমার পরিবার। কোনো দিন এমন ঘটনা দেখেনি। শশী পাঁজা অন্যরকম মানুষ। ওঁনার জনসংযোগ ব্যাপক। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হয়েও উনি এলাকায় যা সময় দেন, তা কাউন্সিলারদেরও হার মানাবে। রাজনীতির কারবারিদের মতে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্বে এই বাড়িতেই প্রয়াত অজিত পাঁজার ছবিতে শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে এসেছিলেন তৃণমূলত্যাগী বিজেপি নেতা তাপস রায়, সেই ‘পাঁজা হাউস’ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা উল্টে পদ্মপার্টির বিপক্ষেই গেল!