


সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার দু’নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়ায় বাস করতেন বিপ্লবী তিনকড়ি দাস। তখন তিনি বোসপাড়া ব্যায়াম সমিতির সক্রিয় সদস্য। লাঠিখেলা, ছোরাখেলা, রণপা দৌড়ে পারদর্শী। পরবর্তীকালে বিপ্লবী রাসবিহারী বসু, কানাইলাল ভট্টাচার্য, সাতকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোদ্ধা হন। ডায়মন্ডহারবার শাখার ন্যাতড়া রেল স্টেশনে টাকা লুটের ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। ব্রিটিশ পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তবে আদালতে কোনও প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি বলে তিনকড়ি ছাড়া পেয়ে যান।
একসময় জয়নগরের বাণী সিনেমাহলের গেটকিপার পদে কাজ করতেন তিনকড়ি দাস। সেই সিনেমা হলটি’র আজ ভগ্নদশা। বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। শোনা যায়, হলের জায়গা বিক্রিও হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি তিনকড়ি দাসের বাসস্থানের চিহ্ন পর্যন্ত নেই জয়নগরে। তাঁর আত্মীয়স্বজনরা জয়নগরে আছেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর লড়াইয়ের ইতিহাস একপ্রকার ভুলেই গিয়েছে জয়নগর। পালন হয় না তিনকড়ির জন্মদিন বা মৃত্যুদিন। জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুকুমার হালদার যদিও বলেন, ‘বিপ্লবী তিনকড়ি দাসের বাড়ি আমাদের এলাকাতেই আছে। ওঁর স্মৃতিরক্ষায় কিছু করা যায় কি না তা দেখা হবে।’
জয়নগরের ইতিহাসের গবেষক ও প্রাক্তন কাউন্সিলার লালমোহন ভট্টাচার্য বলেন, ‘তিনু নামে জয়নগরে পরিচিতি ছিলেন তিনকড়ি দাস। ব্রিটিশ আমলে ডায়মন্ডহারবারে এক সাহেবের ভৃত্য হয়ে বাড়িতে ঢুকেছিলেন। ন্যাতড়া স্টেশনে টাকা লুটের সময় তিনি ওই সাহেবের কাছেই থাকতেন। এক রাতে সাহেব ঘুমিয়ে পড়ার পরে রণপা নিয়ে দ্রুত গিয়ে লুটে অংশ নিয়েছিলেন। কাজ শেষ করে রণপাতেই ডায়মন্ডহারবার ফেরেন। সকালে সাহেবকে ঘুম থেকে তুলে চা খেতে দেন। টাকা লুটের ঘটনায় পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর ওই সাহেব মালিকই আদালতে সাক্ষী দেন যে, রাতে তাঁর কাছেই ছিলেন তিনকড়ি। এরপর তিনি বেকসুর খালাস পান।’ লালমোহনবাবু জানান, তিনকড়ি আত্মোন্নতি সমিতি বলে বিপ্লবীদের সংগঠন তৈরি করেছিলেন। তাঁর নির্দেশে ছেলেদের শেখানো হতো লাঠিখেলা, ছোরাখেলা। এই এলাকায় স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনকড়ি। শেষ বয়সে বাণী সিনেমা হলের গেট কিপারের কাজ করেন। এই মহান বিপ্লবীর স্মৃতি যেন বেঁচে থাকে তার জন্য উদ্যোগ নিক পুরসভা।