


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর জি কর‑কাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতি নিয়ে সওয়ালে বুধবার ফের কলকাতার প্রাক্তন পুলিস কমিশনার বিনীত গোয়েল ও সিবিআই কর্তা সম্পত মিনার প্রসঙ্গ উঠে এল শিয়ালদহ আদালতে। নিম্ন আদালতে নির্যাতিতা পরিবারের কৌঁসুলিদের অভিযোগ, ওই দুই আইপিএস কর্তা একই ব্যাচের ছিলেন। তাই তাঁদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে যে সিবিআই কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না, এটাই জলের মতো পরিষ্কার। তাই মামলার তদন্তেরও কোনও অগ্রগতি হবে না বলে আমাদের স্থির বিশ্বাস। সিবিআইয়ের কৌঁসুলি এর তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, যে কেউ ব্যাচমেট হতেই পারেন। সেটা কোনও অপরাধ নয়। কিন্তু এই ঘটনায় ওই পুলিস কর্তার বিরুদ্ধে কোনও গাফিলতির অভিযোগ মেলেনি। তাই কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি তাঁর বিরুদ্ধে।
এদিকে, আর জি কর কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের মামলা গ্রহণ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বেকসুর খালাসের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সঞ্জয়। এদিন বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সিবিআইয়ের দায়ের করা মামলার সঙ্গে এই মামলাটিও জুড়ে শুনানি হবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পরবর্তী শুনানি। আদালত আরও জানিয়েছে, নির্যাতিতার পরিবার চাইলে এই মামলায় আদালতকে সহযোগিতা করতে পারবে। সঞ্জয়ের আইনজীবী কৌশিক গুপ্তের বক্তব্য, কিছু সাক্ষ্যপ্রমাণের উপর নির্ভর করে অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। তাঁর মক্কেলকে বেকসুর খালাস দেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এদিন আদালতে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট দিয়ে বলা হয়, এই ঘটনায় নতুন করে সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যদিও তা নিয়ে প্রকাশ্যে আদালতে সিবিআই কোনও সবিস্তার ব্যাখা দেননি। তবে এদিনও নির্যাতিতার কৌঁসুলিরা এই সওয়ালপর্বে সিবিআইয়ের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার পরে গড়িয়ে গিয়েছে দীর্ঘ সময়। অথচ এই তদন্তকারী সংস্থা মাঝে মধ্যেই রিপোর্ট দিয়ে জানাচ্ছে, তদন্ত চলছে। যা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা হতাশ। নির্যাতিতার বাবা‑মা’র উপস্থিতিতে তাঁদের কৌঁসুলিদের বক্তব্য, ঘটনার দিন রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে ছিলেন চারজন চিকিৎসক। তাঁদের কেন গ্রেপ্তার করে জেরা করা হলো না? উত্তরে সিবিআই বলে, যথেষ্ট তথ্য‑প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না। এ ক্ষেত্রে হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। ওই চারজনকে লাইট ডিটেক্টর পরীক্ষার সামনেও বসানো হয়েছিল।
এদিন এই মামলায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বক্তব্য, ওই অপরাধীর ডিএনএ’র সঙ্গে ঘটনাস্থলের নমুনা মিলে গিয়েছিল। আদালতের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এদিন এই সওয়ালকে ঘিরে আদালত কক্ষ ছিল উত্তপ্ত। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সিবিআইয়ের পরবর্তী স্ট্যাটাস রিপোর্ট দেওয়ার দিন ধার্য হয়েছে।