


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: গামলায় গরম রসগোল্লা ভাসলে জিভে জল আসে না এমন বাঙালি কম রয়েছে। কয়েক বছর আগেও ১০টাকার বড় সাইজের একটা রসগোল্লা মুখে নিলে তৃপ্তি পাওয়া যেত। পরে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সংকটকে হাতিয়ার করে একদফা মিষ্টি ও কচুরির দাম বাড়ানো হয়। এখন চিনির দামের ধাক্কায় বাঙালির প্রিয় এই মিষ্টির সাইজ আরও ছোট হচ্ছে। ছানা কমিয়ে কিছুটা লাভ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু রসগোল্লার এই রূপ দেখে ভোজনরসিকদের মুখ ভার। সাইজ আরও ছোট হয়ে যাবে না তো? এই আশঙ্কাও তাঁদের মনে দানা বাঁধছে। অর্থনীতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখা লোকজন বলছেন, হয় দাম বাড়বে না হলে শুধু রসগোল্লা নয়, অন্যান্য মিষ্টির সাইজও কমবে। এর নেপথ্যে রয়েছে ইথানল। পেট্রলের সঙ্গে এখন ইথানল মেশানোয় চিনির দাম হু হু করে বাড়ছে। তাতে ভোজন রসিকদের মুখ ভার হলেও কারো কোনো তোয়াক্কা নেই।বর্ধমানের বাসিন্দা সঞ্জু ঘোষ বলেন, মিষ্টি আমার ভীষণ প্রিয়। কিন্তু কয়েক দিন ধরেই দেখছি, মিষ্টির সাইজ ছোট হচ্ছে। মিষ্টির দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গিয়েছে। দাম আরও বাড়লে মানুষ খাবে কি? আর এক বাসিন্দা শম্ভু ভট্টাচার্য বলেন, চায়ের দোকানদাররাও এখন ভাঁড়ের সাইজ ছোট করছেন। কয়েকদিনের মধ্যে ৪২-৪৫টাকা থেকে চিনির দাম ৭০ ছুঁই ছুঁই করবে, তা কোনো দিনই ভাবিনি। আগামী দিনে দাম আরও বাড়তে পারে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই বর্ধমানেই দু’-তিনটি ইথানল তৈরির কারখানা তৈরি হয়েছে। চালের ভাঙা অংশ, ভুট্টা এবং আখের রস দিয়ে ইথানল তৈরি হয়। পূর্ব বর্ধমানে চালের ভাঙা অংশ পাওয়া সহজলভ্য। সেই কারণে অনেক সংস্থায় এখানে ইথানল ফ্যাক্টারি তৈরি করার টার্গেট নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই কারখানা তৈরির জন্য মোটা অঙ্কের টাকা ভর্তুকি দেয়। তাছাড়া ইথানল বিক্রি করতেও সংস্থাগুলিকে সমস্যায় পড়তে হয় না। তেল উৎপাদন সংস্থাগুলিই তা কিনে নেয়। পাঞ্জাবে সবচেয়ে বেশি ইথানল তৈরির কারখানা তৈরি হয়েছে। সেখানে আখের রস দিয়েই বেশি ইথানল তৈরি হচ্ছে। তাতে বাঙালিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আড্ডা না দেওয়া কিংবা মিষ্টি মুখে তোলেন না এমন বাঙালি পাওয়া ভার। বর্ধমান শহরের এক মিষ্টি বিক্রেতা বলেন, চিনির দাম এভাবে বাড়লে সাইজ ছোট হবে। কারণ বেশি দাম দিয়ে মিষ্টি ক্রেতারা কিনতে চাইবেন না। সাইজ ছোট করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ছাড়া উপায় কি!