


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: দোলের দিন বেপরোয়া গতির বলি হল দুই শিশু ও চার মহিলা সহ ৭ জন। শুক্রবার বেলার দিকে কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়কের উপর চাপড়া থানার অন্তর্গত লক্ষ্মীগাছা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরপর দু’টি টোটোর সঙ্গে স্করপিওর সংঘর্ষ হয়েছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। চাপড়া থানার পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃতদের নাম আয়েশা মল্লিক (২৬), সান্ত্বনা মণ্ডল (৩৩), তাক্রিম মল্লিক (৩), রহিমা বিবি (৩৪), পারভিনা বিবি (৩৫), আনাইত ঘোষ (৩৫ ), রোহন শেখ (১৫)। এছাড়াও আরোও ছ’জন জখম হয়েছেন বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়াতে শোকজ্ঞাপন করেছেন।
এলাকাবাসী দাবি, গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় থাকার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত গাড়ির চালক সূর্য মণ্ডলকে শুক্রবার রাতেই চাপড়া থানার পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতকে শনিবার কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, ‘অভিযুক্ত গাড়ির চালককে ডোমকল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের বাড়ি থানারপাড়া এলাকায়। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সাতজন মারা গিয়েছেন। কৃষ্ণনগরের দিক থেকে দ্রুত গতিতে স্করপিওটি যাচ্ছিল। ঘটনাস্থলে আমরা স্পিড ব্রেকার বসাচ্ছি।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাকাশিপাড়া থানার তেঘরির বাসিন্দা সান্ত্বনা বিবি, আয়েশা মল্লিক এবং তাক্রিম মল্লিক সহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য টোটো করে চাপড়ার দিকে আসছিল। চাপড়া থানার লক্ষ্মীগাছার কাছে কৃষ্ণনগরের দিক থেকে আসা স্করপিওটি সজোরে টোটোটিকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের সান্ত্বনা, তাক্রিম এবং আয়েশা মল্লিক মারা যান। বাকিদের জখম অবস্থায় প্রথমে চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মৃতের দাদা ফিরোজ মল্লিক বলেন, ‘আমার বোনরা মিলে চাপড়া বাজারে আসছিল। ঈদের কেনাকাটার জন্যই টোটো করে সকলে মিলে বেরিয়েছিল। কিন্তু ওরা আর ফিরল না। আমার দুই বোন আর এক ভাগ্নের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আমাদের বাড়ির বেশ কয়েকজন জখম অবস্থায় চিকিৎসাধীন।’ এরপর স্করপিও গাড়িটি আরও একটি টোটোকে ধাক্কা মারে। সেই টোটোতে ছিলেন টোটোচালক আনাইত ঘোষ সহ রহিমা বিবি, পারভিনা বিবি, রোহন শেখ। তাঁরা চাপড়া হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রোহনের বেশ কয়েকদিন ধরে পেটে সমস্যা হচ্ছিল। তাই রোহনকে নিয়ে তাঁর মা রহিমা বিবি ও প্রতিবেশী পারভিনা বিবি ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন। সেইসময় স্করপিওটি ধাক্কা মারলে তাঁরা গুরতর জখম হন। তাঁদের প্রথমে চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসক তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।