


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তৈরি হওয়ার দেড় বছরের মাথায় পিচ উঠে মাটি ও পাথর বেরিয়ে জায়গায় জায়গায় বড়ো বড়ো গর্ত। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় প্রায় ৯ কোটি টাকায় নির্মিত রাস্তার এই হালে ক্ষুব্ধ আশপাশের গ্রামের মানুষ। নলহাটির গোপালপুর পশুহাট থেকে সুহুদিঘি গ্রাম হয়ে তালুডাঙা পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটির হাল অত্যন্ত শোচনীয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার হাজার হাজার মানুষকে। এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি ধরে নলহাটি পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ছাড়াও পাইকপাড়া, আমাইপুর, মধুরা ও সুহুদিঘির মতো বহু গ্রামের মানুষ নলহাটি শহর, থানা, কলেজ, বিডিও এবং বিএল অ্যান্ড আরও অফিস, হাসপাতাল ও রেল স্টেশনে যাতায়াত করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মিলন শেখের ক্ষোভ, রাস্তা তৈরির মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই পিচ উঠতে শুরু করেছিল। এই বর্ষায় তো চলাচলেরই উপায় নেই। গর্তে জল জমে থাকায় টোটো উল্টে যাচ্ছে, বাইক আরোহীরা দুর্ঘটনায় পড়ছেন। পথচারীদের হাঁটা দায় হয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, এই পথ সংস্কারের সময় থেকেই জালিয়াতি চলছিল। বছর দেড়েক আগে রাস্তাটি তৈরির সময় পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা কাজের নিম্নমান নিয়ে সরব হন এবং কাজ বন্ধ করে দেন। অভিযোগ ছিল, পুরনো রাস্তা খুঁড়ে তোলা মাটি-পাথর দিয়েই রাস্তা লেভেল করা হচ্ছিল এবং কাজের কোনো শিডিউল প্রকাশ্যে লাগানো হয়নি। ঠিকাদার মোস্তফা খান শ্রমিকদের ভুলের কথা স্বীকার করে শিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত কাজ করার আশ্বাস দিলে কাজ ফের শুরু হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই রাস্তাটির এই কঙ্কালসার চেহারা প্রশাসনিক নজরদারি ও ঠিকাদারি সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
অভিযুক্ত ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং জানান, রাস্তাটি এখনও ‘ওয়ার্যান্টি পিরিয়ড’-এর মধ্যে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে এটি মেরামত করে দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, রামপুরহাটের মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, কোন সংস্থা এই রাস্তাটি নির্মাণ করেছিল তা দ্রুত খতিয়ে দেখে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সঠিক মানের সামগ্রী দিয়ে দ্রুত টেকসই রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।