


অভিষেক পাল, বহরমপুর: ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ থেকে সরে দাঁড়িয়ে রেজিনগরে কার্যত বাম ঐক্যের বার্তা দিল আরএসপি। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে রেজিনগর উপনির্বাচন বয়কটের ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট সংসারের এই সেজো শরিক। ফলে, ত্রিমুখী লড়াইয়ে সিপিএমের প্রার্থী বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত। স্বাভাবিকভাবেই বড় শরিকের নেতারাও খানিক স্বস্তিতে। তবে, আরএসপির নেতা-কর্মীরা আন্তরিকভাবে সিপিএমকে সমর্থন করবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনার বুঁদবুঁদ উঠছে রেজিনগরে। এ ব্যাপারে আরএসপি প্রার্থী বিকাশচন্দ্র মিশ্র বল ঠেলে দিয়েছেন রাজ্য কমিটির কোর্টে।
যাইহোক, আরএসপির এই রণেভঙ্গের ঘটনার মধ্যে রাজনীতির কারবারিরা বাম ঐক্যের বার্তা দেখলেও বিজেপি কিন্তু তলে তলে বেজায় খুশি। কারণ, বিজেপি ছাড়া একমাত্র আরএসপি হিন্দু প্রার্থী দিয়েছিল রেজিনগরে। তাদের প্রার্থী না থাকায় রেজিনগরে সংখ্যালঘু হিন্দুভোট এককাট্টা করার কাজটা অনেকটাই সহজ হবে গেরুয়া শিবিরের কাছে।
রেজিনগর উপনির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই বামফ্রন্টের সার্বিক ঐক্য নজরে পড়েনি। উলটে সিপিএমের পাশাপাশি আরএসপিও প্রার্থী দিয়ে বসে। এই আত্মঘাতী লড়াই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছিল। কিন্তু, পরে কমিশনের ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোট-যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ায় আরএসপি। রেজিনগরে ২৮ শতাংশ হিন্দু ভোট। আরএসপির হিন্দু প্রার্থী বিকাশচন্দ্র মিশ্র সরে দাঁড়ানোয় এই হিন্দু ভোটের উপর আধিপত্য বজায় রাখার কৌশল নেবে বিজেপি।
তবে, বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার রাজনীতির এই জটিল সমীকরণে যেতে নারাজ। তিনি মঙ্গলবার বলেন, ‘বামেরা নির্বাচনে লড়াই করবে কি নিয়ে? কোন মুখে মানুষের কাছে যাবে সিপিএম ও আরএসপি। ৩৪ বছর সরকারে থেকে কি উন্নয়ন করেছে রেজিনগরে। কেন ব্রিজ হয়নি, কেন ভালো স্কুল কলেজ নেই। কেন শিল্পতালুক থাকলেও শিল্প ও কল কারখানা গড়ে ওঠেনি। এখন মানুষের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে মানুষই মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে বলেই বাহানা খুঁজে ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছে আরএসপি।’
আরএসপি প্রার্থী বিকাশ চন্দ্র মিশ্র বলেন, ‘রাজ্য কমিটির নির্দেশে নির্বাচন থেকে আমরা বিরত থাকছি। মনোনয়ন জমা করেছি গত ১৫ সেপ্টেম্বর। ১৭ তারিখে স্ক্রুটিনি হয়েছে। ১৯ তারিখ শেষ মুহূর্তে আমাকে ফোন করে বলা হচ্ছে, আপনার প্রতীক আপনাকে দেওয়া যাচ্ছে না। আপনাকে নির্দলের প্রতীক নিতে হবে। ১৮৩টি প্রতীক রয়েছে। তারমধ্যে যে কোনও একটা নিতে হবে আপনাকে। তা হলে স্ক্রুটিনির মানে কি? সেটাই বোধগম্য হল না!’ আরএসপির রাজ্য সম্পাদক তপন হোড় বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন যে ধরনের আচরণ করছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই রেজিনগর উপনির্বাচনে প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিলাম।’
সোমবার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তপনবাবু জানান, উপনির্বাচনে কমিশন অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ভূমিকা পালন করছে। বিরোধী দলগুলির জন্য প্রতীক বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বৈরাচারী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার মূল উদ্দেশ্য হল বিজেপির জয়ের পথকে সুগম করা। আমাদের প্রার্থীকে আচমকা নির্ধারিত প্রতীক কোদাল ও বেলচা কেড়ে নেওয়া হল। অথচ, স্ক্রুটিনি চলাকালীন বা নির্বাচনের কোনো বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে আগে থেকে কোনো সতর্কীকরণ বা দলকে বার্তা দেওয়া হয়নি। এছাড়া পুলিশ বিরোধী প্রার্থীদের ওপর চাপ তৈরি করে এই উপনির্বাচনকে একটি প্রহসনে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।