


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: অনুপ্রবেশ রুখতে মালদহের সীমান্তবর্তী গ্রামে সম্পর্ক বৈঠক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস)। সীমান্তবর্তী পাঁচটি ব্লকের সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামগুলিতে চলছে ‘সম্পর্ক বৈঠক’। সীমান্তবর্তী অঞ্চল সুরক্ষিত রাখতেই এই প্রয়াস বলে দাবি স্বয়ংসেবকদের।
সংঘের অধীনেই রয়েছে সীমান্ত চেতনা মঞ্চ। যার সাংগঠনিক কাঠামোর একেবারে ওপরের স্তরে প্রদেশ অর্থাৎ রাজ্য। এর অধীনে রয়েছে তিনটি প্রান্ত- উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ। প্রান্তের নীচে জেলা এবং তারপর ব্লক কমিটি। যার অধীনে রয়েছে আবার শক্তি কেন্দ্র। শক্তি কেন্দ্রের নীচে অর্থাৎ সংগঠনের একেবারে তলায় রয়েছে গ্রাম সমিতি।
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের অন্তর্গত উত্তরবঙ্গ প্রান্তের অধীনে রয়েছে সীমান্ত চেতনা মঞ্চ মালদহ জেলা কমিটি। প্রশাসনিক কাঠামোতে মালদহ জেলায় ১৫টি ব্লক। যেহেতু মালদহ জেলার বামনগোলা, হবিবপুর, পুরাতন মালদহ এবং ইংলিশবাজার ও কালিয়াচক-৩ ব্লক বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী, তাই সীমান্ত চেতনা মঞ্চ এখানে পাঁচটি কমিটি গঠন করেছে। যার অধীনে কয়েকটি শক্তি কেন্দ্র ও অসংখ্য গ্রাম সমিতি আছে।
সীমান্ত চেতনা মঞ্চের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের আহ্বায়ক গণেশ পাল বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে আমাদের দেশ বাঁচবে। আর সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে সীমান্তবর্তী মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। সেই কাজটাই আমরা করছি।
সংঘের কথায়, সম্প্রতি উন্মুক্ত সীমান্তের ওপার থেকে অবৈধভাবে এক বাংলাদেশি যুবক বামনগোলা ব্লকের পাকুয়ার জামতলায় ঢুকে পড়ে। সে স্থানীয় এক আদিবাসী মেয়েকে বিয়ে করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
ওপারের লোকজন পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে যাওয়ায় ধীরে ধীরে রাজ্যবাসীর ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক পরিচ্ছদ, কথা বলার ধরন, মানসিকতা পালটে যাচ্ছে। আর তা রুখতেই সীমান্ত চেতনা মঞ্চ গড়া হয়েছে বলে সংঘের দাবি। বাংলার সীমান্তবর্তী গ্রামে ওপারের লোকজনদের অত্যাচার বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের ওপারে এদেশের অনেকেরই কৃষি জমি আছে। বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা সেই সমস্ত জমির ফসল কেটে চুরি করছে। জমি দখল করছে। এমনকি তারা উন্মুক্ত সীমান্ত পেরিয়ে এপারে এসেও জমির ফসল চুরি করছে, গবাধি পশু চুরি করছে, ভারতীয় গ্রামবাসীদের ওপর সুযোগ পেলেই অত্যাচার করছে। আর তা রুখতেই মানুষের সচেতনতার প্রয়োজন। আর সেই লক্ষ্যেই সীমান্ত চেতনা মঞ্চ বাংলার সীমান্তবর্তী গ্রামে গিয়ে সম্পর্ক বৈঠক করছে। সেখানকার মানুষকে সচেতন করছে।