


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন? ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার আম জনতার মধ্যে এই প্রশ্নটাই ঘুরছে। যদিও গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারও এই কেন্দ্রে তৃণমূলের পাল্লা অনেকটাই ভারী। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অবশ্য দাবি, এবার উদয়নারায়ণপুর দেখবে পালা বদলের ভোট। হাওড়া জেলার একদম শেষ প্রান্তে অবস্থিত উদয়নারায়ণপুর। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একসময়ের বাম দুর্গ উদয়নারায়ণপুর ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর থেকে এই কেন্দ্র তৃণমূলের দখলেই আছে। এবারের ভোটে গত তিনবারের বিধায়ক সমীর পাঁজাকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। বামেরা প্রার্থী করেছে ষষ্ঠী মাজিকে। তবে বিজেপি ও কংগ্রেস এখনো এই কেন্দ্রে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তৃণমূল ও বাম প্রার্থী দেওয়াল লিখনের পাশাপাশি জোরকদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী সমীর পাঁজা ১৩ হাজার ৯৯৮ ভোটে বিজেপি প্রার্থী সুমিত রঞ্জন কাঁড়ারকে পরাজিত করেছিলেন। সমীরবাবু পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১ হাজার ৫১০ ভোট। সুমিতবাবু পেয়েছিলেন ৮৭ হাজার ৫১২ ভোট। সংযুক্ত মোর্চার কংগ্রেস প্রার্থী অলোক কোলে পেয়েছিলেন ৫ হাজার ১৭৮ ভোট।
বুধবার উদয়নারায়ণপুরের গড়ভবানীপুরে দলের প্রায় ৫ হাজার ছাত্র, যুব ও মহিলা কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন তৃণমূল প্রার্থী। সেই বৈঠকে সমীরবাবু দলীয় কর্মীদের সাফ জানিয়ে দেন, এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া যাবে না। জয়ের ব্যবধান গতবারের তুলনায় বাড়াতে হবে। সমীরবাবু জানান, কর্মীদের জেলার মধ্যে সর্ব্বোচ্চ ব্যবধানে জয় আনার লক্ষ্য নিয়ে নামতে বলা হয়েছে। কমপক্ষে ৬৫ হাজার ভোটে জয়ের টার্গেট ঠিক করে দিয়েছেন তিনি। যদিও বাম প্রার্থী ষষ্ঠী মাজির দাবি, ‘প্রচারে যেভাবে আমি সাড়া পাচ্ছি, তাতে দেখছি মানুষ পরিবর্তন চাইছে। উদয়নারায়ণপুরের মানুষ তৃণমূল বিজেপির পরাজয় চাইছে।’ তৃণমুল বামেদের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলার সাধারন সম্পাদক রমেশ সাধুখাঁ বলেন, ‘এবার সাধারণ মানুষ বিজেপিকে জোতানোর জন্য প্রস্তুত। উদয়নারায়ণপুরে তৃণমূল প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত।’ পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক তাপস কোদালীর বক্তব্য, ‘কেন্দ্রে বিজেপি সরকার এবং রাজ্যে তৃণমূল সরকারের সেটিং বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছে। তাই এবার বিজেপি এবং তৃণমূল বিরোধী ভোট কংগ্রেসের ঝুলিতে ঢুকবে। পশ্চিমবাংলায় কংগ্রেস অনেক আসন পাবে।’ নিজস্ব চিত্র