


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত বিধানসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। জল্পনার ইতি হল মঙ্গলবার। জেলা সদর বারাসতের তৃণমূল প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত। নাম ঘোষণা হওয়ার পর এদিন বারাসতে এসে কর্মীদের নিয়ে প্রচারও শুরু করেছেন তিনি। প্রথমে বারাসত আদালতে গিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। নিজের জয় সম্পর্কে আশাবাদী বলেই জানানা সব্যসাচী। বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। বারাসতের সঙ্গে আমার পুরানো সম্পর্ক। প্রার্থী হওয়ায় প্রত্যেকের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ করছি। তাঁর কাছে জানতে যাওয়া হয়, বারাসত শহরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কীভাবে সামলাবেন? সব্যসাচী বলেন, আমাদের দলে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। পুর চেয়ারম্যান থেকে ভাইস চেয়ারম্যান কিংবা অন্যান্য শাখা সংগঠনের নেতৃত্ব সবাই এক। প্রথম দিনেই আমার পাশে সকলেই বসে রয়েছেন। তারপরেও সংবাদমাধ্যম একে দ্বন্দ্ব বলছে! গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমের তৈরি করা, আমাদের বিভেদ নেই।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সাল থেকে বারাসতের তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। কিন্তু তাঁকে এলাকায় তেমন পাওয়া যায় না বলেই অভিযোগ ছিল বহু নাগরিক এবং কর্মীদেরও একাংশের। তাই এখানে একজন সর্বক্ষণের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই প্রার্থী চেয়েছিলেন দলের একাংশ। সবদিক বিবেচনা করে পোড়খাওয়া তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকেই টিকিট দিয়েছে দল। এ নিয়ে বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, সব্যসাচী আমাদের দলের প্রার্থী। ওঁর সঙ্গে রাজনৈতিক কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এদিকে ২০১১ সাল থেকে মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। দল এবারও তাঁর উপর ভরসা রেখেছে। তিনি বলেন, আশা করব মানুষ আমাকে আবার জেতাবেন। এদিকে হাবড়ার তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ। ২০১১-২৬ পর্যন্ত হাবড়ার বিধায়ক তিনি। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই মমতার ছায়াসঙ্গী ‘বালু’। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত যে, হাবড়ার মানুষ এবারও আমাকে আশীর্বাদ করবেন। অশোকনগরে এবারও প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী। স্থানীয় বিধায়ককেই প্রার্থী পেয়ে উচ্ছ্বসিত দলীয় কর্মীরা। দেগঙ্গায় প্রার্থী বদল করেছে দল। রহিমা মণ্ডলের জায়গায় এলেন আনিসুর রহমান। আনিসুর বলেন, আমার প্রতি দলের আস্থার মর্যাদা রাখব। আমডাঙায় নতুন মুখ কাশেম সিদ্দিকি। তবে রফিকার রহমান প্রার্থীপদ না-পাওয়ায় তাঁর অনুগামীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান।