


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপির পরবর্তী রাজ্য সভাপতি হতে চলেছেন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে তাঁর নেতৃত্বেই বাংলায় লড়বে গেরুয়া পার্টি। ২০২১ সালের পর থেকে এ রাজ্যে বিজেপির আদি-নব্য শিবিরের লড়াই চরমে ওঠে। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও টালবাহানা শেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ‘আদি’ শিবিরের নেতা শমীক ভট্টাচার্যকেই বেছে নিল। সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুমোদনক্রমেই বঙ্গ বিজেপির এই পুরনো ও পরিচিত মুখকে এই পদে বসানো হল। এ প্রসঙ্গে শমীকবাবু বলেন, ‘বিজেপি একটা প্রবহমান দল। কে সভাপতি হল, সেটা বড় কথা নয়। বুথ স্তরে কর্মীরা একটাই লক্ষ্যে কাজ করছেন। তা হল, ২০২৬-এর নির্বাচন, তৃণমূলের বিসর্জন।’
২০২৪ সালে শমীকবাবু সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। সম্প্রতি ‘অপারেশন সিন্দুর’ ইস্যুতে ভারতের পক্ষে জনমত তৈরির লক্ষ্যে বিশেষ সংসদীয় টিমের সদস্যও ছিলেন তিনি। গোটা বিশ্বের জন্য পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা কতটা বিপজ্জনক, তা দেশে দেশে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ওই ভূমিকা জাতীয় স্তরেও তারিফ আদায় করে নিয়েছে। ১৯৭১ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত শমীকবাবু। আদতে হাওড়ার বাসিন্দা শমীকবাবু সাতের দশকে জেলার যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন। কলা বিভাগের স্নাতক, সুবক্তা শমীক পরবর্তী সময়ে রাজ্য যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন ১১ বছর। ৩ দফায় রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে সল্টলেকের বাসিন্দা শমীক বঙ্গ বিজেপির ১১তম সভাপতি হতে চলেছেন। অবিবাহিত এবং পরীক্ষিত শমীকবাবুকেই বঙ্গ বিজেপির সভাপতি করতে সিলমোহর দিয়েছে আরএসএস তথা সঙ্ঘ পরিবার। ফলে আগামী দিনে দলের ‘তৎকাল’ নেতাদের নিয়ে সঙ্ঘের কড়া অবস্থানের কোনও প্রতিফলন তাঁর কাজকর্মে দেখা যায় কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে বিজেপি সহ রাজনৈতিক মহলে।
শমীকবাবু ২০১১ সালে বীরভূমের লোবায় যাওয়ার পথে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। কপালে ৭৪টি সেলাই নিয়ে কার্যত মৃত্যমুখ থেকে ফিরে আসেন তিনি। ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সেখানে মাত্র ১৮ মাসের মধ্যেই পরিষদীয় রাজনীতিতে দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন তিনি। তাঁর রাজ্য সভাপতি হওয়া নিয়ে বুধবার তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘নতুন বিজেপি সভাপতিকে শুভেচ্ছা। কিন্তু বাংলায় তৃণমূলকে সরানো যাবে না, তা শমীক নিজেও ভালো করেই জানেন।’