


অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: বিদেশিদের বাংলা ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিল স্কটিশ চার্চ কলেজ। বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত থেকে অনলাইনে ‘এসো বাংলা শিখি’ কোর্সটিতে যোগ দিতে পারবেন আগ্রহীরা। শুধুমাত্র সামান্য কিছু বাংলা শব্দ বা বাক্য শেখা নয়, বিদেশিদের বাংলা ভাষায় রীতিমতো চোস্ত করে তোলা হবে। এ পরিকল্পনাই নিয়েছে দেশের মধ্যে অন্যতম প্রাচীন কলকাতার স্কটিশ কলেজ। প্রাইমারি, ইন্টারমিডিয়েট এবং অ্যাডভান্সড—এই তিন স্তরে সাজানো হচ্ছে কোর্স।
হঠাৎ এই উদ্যোগ কেন? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ভাষা আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন, তখন এই পরিকল্পনা আলাদা তাৎপর্যও বহন করছে কি? যদিও কলেজের অধ্যক্ষ মধুমঞ্জরী মণ্ডল জানান, এই প্রস্তাব এসেছে একেবারেই অন্য ক্ষেত্র থেকে। গৌড়ীয় বৈষ্ণব প্রতিষ্ঠান ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার এই প্রস্তাব দিয়েছে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা ইসকনের অবাঙালি, মূলত বিদেশি ভক্তরা বাংলা শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, ভগবদ গীতা, ভগবদ পুরাণ পড়তে চাইছেন। তাঁদের জন্যই কোর্স চালুর প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আদ্যন্ত একটি খ্রিস্টান কলেজে বৈষ্ণব ভক্তদের জন্য বাংলা কোর্স চালুর প্রস্তাব কেন? আসলে ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী শ্রীল প্রভুপাদ (অভয়চরণ দে) এই কলেজের ছাত্র ছিলেন। ইসকনের সন্ন্যাসী এবং ভক্তরা স্কটিশ চার্চ কলেজকে রীতিমতো শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। অধ্যক্ষ জানান, অনেক সময়ই তিনি দেখেছেন ইসকনের সন্ন্যাসী এবং ভক্তরা বাইরে থেকেই কলেজ ভবনকে প্রণাম করছেন। সেই ভক্তি থেকেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে স্কটিশকে। তবে কোর্স চালুর পর তা শুধুমাত্র ইসকনের ভক্ত, সন্ন্যাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে না।
কোর্সের নোডাল শিক্ষক বিদিশা সিনহা জানান, প্রাথমিক স্তরের জন্য ২৪টি এক ঘণ্টার ক্লাস হবে। প্রত্যেক ক্লাসের শেষে শিক্ষার্থীদের এমসিকিউ ধাঁচের প্রশ্ন দেওয়া হবে মূল্যায়নের জন্য। কোর্স নিয়ে একটি প্রচারমূলক ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও অনলাইন কোর্সের জন্যও বেশ কিছু অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট রেকর্ড হচ্ছে। সেটি শেষ হবে সেপ্টেম্বরে। তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে কোর্স চালুর দিনক্ষণ ঘোষণা হবে। কোর্স করতে কিছু টাকা ফি হিসেবে নেবে কলেজ। এই সব খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।