


পিনাকী ঢোলে পুরুলিয়া
‘বর্তমান পত্রিকা’-র খবরের জেরে অবশেষে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসল। বলরামপুরে বেআইনি পাথর খাদান নিয়ে পুরুলিয়ার মহকুমা শাসক রিপোর্ট তলব করলেন। মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিককে মঙ্গলবারই এবিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন মহকুমা শাসক উত্পল ঘোষ। বলরামপুরে যে সমস্ত পাথর খাদান ও ক্রাশার রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়েছেন তিনি। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন বেআইনি পাথর খাদানের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনার তোড়জোড় শুরু করেছে।
মঙ্গলবার মহকুমা শাসক বলেন, ‘এসডিএলএলআরও’র কাছ থেকে বলরামপুরের পাথর খাদান নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। তাড়াতাড়ি সেই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
বলরামপুরে বিশেষত বেলা ও দরদা অঞ্চলে পাথরের বেআইনি কারবারের রমরমা রয়েছে। অভিযোগ, প্রশাসনের একেবারে নাকের ডগায় এই অবৈধ কারবার চলে। স্থানীয়দের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের পাথর মাফিয়ারাও এই কারবারে যুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে বেলা পঞ্চায়েতের দাঁতিয়ায় পুলিসের ইন্টারস্টেট নাকা চেকপোস্টের কাছে যে খাদানটি রয়েছে, সেটি এলাকার সর্ববৃহৎ খাদান বলে পরিচিত। প্রায় ৩২ একরের বেশি বনভূমি দখল করে ওই খাদানটি রমরমিয়ে কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। দিনরাত ফাটছে ডিনামাইট। এই কারবারে প্রশাসনের আধিকারিকদের একাংশ ও ব্লক ও জেলার বেশ কিছু দাপুটে নেতার মদত রয়েছে বলে অভিযোগ।
জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় সভাপতি অশোক মাহাত বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এই বেআইনি কারবার চলতে পারে? কয়েকজন মুষ্টিমেয় সুবিধাবাদী লোকের জন্য সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। সেইসঙ্গে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। পরিবেশ নষ্ট করা এই বেআইনি কারবার কোনওভাবেই চলতে দেওয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে আমরা খুব তাড়াতাড়ি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানাব।
পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী ভূমিজ মুণ্ডা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মীনারায়ণ সিং সর্দার বলেন, বলরামপুরের এসমস্ত বেআইনি কারবারে আদিবাসী সমাজের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁদের অল্প টাকায় খাদান, ক্রাশারে কাজ করানো হচ্ছে। ন্যূনতম নিরাপত্তাও নেই। গতবছরই বিরামডির এক মহিলা বেআইনি ক্রাশারে কাজ করতে গিয়ে বেল্টে জড়িয়ে মারা যান। মুখ বন্ধ করাতে মহিলার পরিবারকে সামান্য কিছু টাকা দেওয়া হয়। সেবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানাতে গিয়ে বুঝেছিলাম, এই পাথর কারবারিরা সবাই রাঘব বোয়াল।
বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি কেদার সিং মুড়া বলেন, বনদপ্তরের সামান্য এক কাঠা জায়গায় যদি কোনও গরিব আদিবাসী মানুষ বাড়ি তৈরি কিংবা চাষ করেন, তাহলে বাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। ফসল নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসমস্ত রাঘব বোয়ালের বিরুদ্ধে বনদপ্তরের কর্তারা একেবারে চুপ। এতে অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে যায়।
এবিষয়ে তৃণমূলের জেলার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সরকারের আর্থিক ক্ষতি করে ও পরিবেশকে ধ্বংস করে যদি বেআইনি কারবার চলে, তবে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানাব। কিছু অসাধু সুবিধাবাদী মানুষের জন্য দলের বদনাম মেনে নেওয়া যায় না। -নিজস্ব চিত্র