


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল সাংগঠনিক জেলার বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি সন্তোষ সিং। ২০১৬ সালে জামুড়িয়া বিধানসভার প্রার্থীও তিনি। জামুড়িয়ার অত্যন্ত পরিচিত নেতাও। দল জামুড়িয়ায় প্রার্থী ঘোষণা করতেই তিনি ফেসবুক লিখেছেন,‘ এটা নয় যে আমি চেষ্টা করিনি, আমি কাজ করিনি। সবকিছু করেছি তবু সংগঠন (দল) আমাকে উপেক্ষা করল।’ রানিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার পুরনো দিনের নেতা শ্রীদীপ চক্রবর্তী। আগের জেলা কমিটিতেও জেলা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রানিগঞ্জ প্রার্থী ঘোষণা হতেই তিনি ফেসবুকে লেখেন ‘সাবাস’! নেতাদের এই ক্ষোভ হিমশৈলের চূড়া মাত্র।
নেতাদের ক্ষোভের সঙ্গে মিশেছে কর্মী মহলের অসন্তোষ। তাঁদের আক্ষেপ, নির্বাচনের সময়ে দল কাজে লাগায়। তারপর ফিরেও তাকায় না। ভোট পরবর্তী সময়ে বিজেপি করার অপরাধে আক্রমণ হলে দলের প্রার্থী, নেতাদের পাশে পাওয়া যায় না। এমনকী, ফোনের সুইচও অফ করে দেন। তাই এবার ভোটে লড়াইয়ে নামতে বহু কর্মীই নিমরাজি। প্রার্থীরা প্রচারে গিয়ে সেই আঁচও পাচ্ছেন। যেমন, জামুড়িয়া ব্লকের রাখাকুড়িয়া গ্রামের সিরাজুল। সংখ্যালঘু মানুষ হয়েও বিজেপিতে তিনি আস্থা রেখেছিলেন। পঞ্চায়েতে লড়াইও করেছিলেন। পঞ্চায়েত ভোটে দাগ কাটতে পারেনি বিজেপি। প্রার্থী হওয়ার জন্য তাঁর বাড়ি আক্রমণ হয় বলে অভিযোগ। চুরুলিয়ায় হাটে বসে ক্ষোভের সুরে সিরাজুল বলছিলেন, ‘আমাদের আদি বাড়ি বীরভূমে। বহু বছর এখানেই থাকি। ভোটে দাঁড়ানোর জন্য বাড়ি ভাঙচুর হয়। গ্রামছাড়া হতে হয়েছিল। তখন পরিবার কী ভাবে ছিল, তা আমরাই জানি। সেই সময় দল পাশে দাঁড়ায়নি। জামুড়িয়ার বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায়কে সেকথা জানিয়েও দিয়েছেন সিরাজুল।’ আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় দীর্ঘদিনের কর্মী মহেন্দ্র যাদব। ভোটের সময়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিজেপিকে এলাকায় লিড দেন। এহেন কর্মীর অভিযোগ, পড়শীর সঙ্গে তাঁর বিবাদ হলে দল তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। বিজেপি বিধায়কের কাছে গিয়েও সাহায্য পাননি। মহেন্দ্রবাবু বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ বার্নপুরের বসের অধীনে কাজ করে। অথচ, কোনও ব্যবস্থা নিলেন না। তবে, বিজেপির পুরনো দিনের কিছু নেতা আমার পাশে ছিলেন।’ পাণ্ডবেশ্বর থেকে রানিগঞ্জ— প্রায় প্রতিটি বিধানসভা এলাকাতেই কর্মীদের একাংশ বেজায় ক্ষুব্ধ। তাঁরা এবার প্রশ্ন তুলছেন, ভোট পরবর্তী হিংসায় দল পাশে থাকবে তো? নিশ্চিত আশ্বাস মিলছে না দলের তরফে। তাই নির্বাচনী কাছে বহু কর্মী নিষ্ক্রিয়। বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব হাজরা বলেন, ‘গত বিধানসভা নির্বাচনের পর জেলাজুড়ে ভয়ানক হিংসা হয়। আমরা চেষ্টা করেছি কর্মীদের পাশে থাকতে। অনেক নেতা বা প্রার্থী হয়তো সেই সাহসটুকু পাননি। প্রার্থী হওয়ার অনেকেরই ইচ্ছে ছিল, তা পূরণ না হওয়ায় সাময়িক ক্ষোভ হতেই পারে। এতে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না।’ তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, ‘বিজেপির প্রার্থী নিয়ে দলের অভ্যন্তরে কেউ খুশি নেই। যাঁরা ভোটে হারার পর দলের কর্মীদের পাশে ছিল না, তাঁরাই ফের প্রার্থী হয়েছেন। বিজেপি কর্মীরাই তাঁদেরকে আর ভরসা করছেন না।’