


নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: আরও গুরুত্ব বাড়ছে নদীয়ার ঐতিহ্যবাহী শান্তিপুর কলেজের। আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকেই কলেজে আরও পাঁচটি বিষয়ে ‘মেজর’ নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ চালু হতে চলেছে। একই সঙ্গে কলেজের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়াতে প্রায় চার কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট তৈরি করা হয়েছে। বাড়তি বিষয় পড়ানোর সুবিধার জন্য নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তও নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
আগে যাকে ‘অনার্স’ বলা হতো, নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় সেটিকেই এখন ‘মেজর’ বলা হচ্ছে। আর পাস কোর্সের বিষয়গুলিকে বলা হচ্ছে ‘মাইনর’। এতদিন পর্যন্ত শান্তিপুর কলেজে ইকোনমিক্স, জিওগ্রাফি, কম্পিউটার সায়েন্স, জুওলজি এবং এডুকেশন বিষয়গুলি মাইনর হিসাবে পড়ার সুযোগ থাকলেও মেজর হিসেবে পড়ানো হতো না। ফলে ওই বিষয়গুলিতে অনার্স করতে চাইলে এলাকার বহু পড়ুয়াকে অন্য কলেজে ভর্তি হতে হতো।
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যার কথা তুলে ধরে বিষয়গুলি মেজর হিসাবে চালুর দাবি জানানো হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বিধায়কের মাধ্যমে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের কাছে বারবার আবেদন জানায়। অবশেষে সেই দাবিতেই সিলমোহর দিয়েছে শিক্ষাদপ্তর। ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ইকোনমিক্স, জিওগ্রাফি, কম্পিউটার সায়েন্স, জুওলজি ও এডুকেশন— এই পাঁচটি বিষয়েই মেজর নিয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন পড়ুয়ারা।
নদীয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শান্তিপুর কলেজ। শুধু শহর নয়, আশপাশের বহু গ্রাম থেকে কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী এখানে নিয়মিত পড়াশোনা করেন। নতুন বিষয় চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও পড়ুয়া আরও বাড়বে বলে মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।
অন্যদিকে, কলেজকে আর্থিক দিক থেকে আরও শক্তিশালী করতে প্রায় চার কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট করা হয়েছে। কলেজের নিজস্ব আয় থেকেই এই অর্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভবিষ্যতে কলেজের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। বিষয় সংখ্যা বাড়ার ফলে পরিকাঠামো উন্নয়নেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলেজের মূল ভবনের পাশের ফাঁকা জায়গায় একটি নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে বলে অনুমান। পাশাপাশি কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, শান্তিপুর কলেজ দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার কেন্দ্র। নতুন পাঁচটি বিষয়ে মেজর চালু হওয়ায় পড়ুয়াদের আর অন্যত্র যেতে হবে না। কলেজের উন্নয়নের জন্য আমরা উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলাম। ভবিষ্যতেও এই কলেজের পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।
নতুন বিষয় চালু ও পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগে আগামী দিনে শান্তিপুর কলেজের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন শিক্ষক ও পড়ুয়ারা। নিজস্ব চিত্র