


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কিডনি-পাচারের কারবার অব্যাহত রাখতে রীতিমতো মোটা খরচে ‘মিডলম্যান’ রাখত ধৃত সুদখোর বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল। আগে কিডনি দান করেছে, এমন লোকজনকেই সাধারণত ‘মিডলম্যান’ নিয়োগ করত বিকাশ। তাদের কাজ ছিল সম্ভাব্য কিডনিদাতাদের উৎসাহ দেওয়া। কিডনি দিতে গিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন যিনি, তাঁকে এই ‘মিডলম্যানরা’ বোঝাত, ‘একটা কিডনি দিলে কিছুই ক্ষতি হবে না। আমি তো দিয়েছি। কোনও সমস্যা নেই। নির্ভয়ে কিডনি দিয়ে দিন।’ তদন্তকারীরা জেনেছেন, এই ‘মিডলম্যান’রা এভাবে কাউকে রাজি করাতে পারলে ‘ক্লায়েন্ট’ পিছু শীতলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে পেত।
বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল কীভাবে সুদের কারবার ও পরবর্তীতে কিডনি পাচারের কারবারে হাত পাকাল? তদন্তকারীরা জেনেছেন, গোয়ালা পরিবারের সদস্য শীতল বেশ কয়েক বছর পর তাঁদের পারিবারিক ব্যবসাই করেছেন। দোকানে, বাড়ির সামনে গিয়ে ‘দুধ নেবে দুধ’ বলে হাঁক পাড়ত সে। তাঁর বাড়িতে প্রায় ১৫টি গোরু ছিল। সেই গোরুর দুধ বেচে চলত সংসার। বছর ছ’য়েক আগে গোরুর লাথিতে শীতলের ডানদিকের চোখ নষ্ট হয়ে যায়। সেই সময় সে পারিবারিক ব্যবসা ছেড়ে দেবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। তাই সবক’টি গোরু বিক্রি করে দিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা তার হাতে আসে। সেই টাকা দিয়েই শুরু হল চড়া সুদের ব্যবসা। এরপর করোনার কারণে লকডাউন শুরু হয়ে যায়। সেই সুযোগে তার সুদের ব্যবসার রমরমাও বৃদ্ধি পায়। পুলিস জেনেছে, করোনার সময় ঋণের টাকা শোধ করতে না পারায় চাপ দিয়ে একজনকে কিডনি ‘বিক্রি’ করতে বাধ্য করে সে। এই কারবারে সেই তার হাতেখড়ি। করোনা আবহে শীতলের এই ফাঁদে পড়ে বেশ কয়েকজন কিডনি বিক্রি করেন। তখন থেকেই আগের কিডনি দাতাকে ‘মিডলম্যান’ বা উৎসাহদাতা হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে সে। চড়া সুদ মেটানোর হাত থেকে বাঁচার উপায় বাতলে দিতে গিয়ে ‘মিডলম্যান’রা নিজেদেরই উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরত। অবৈধ পথে এই মোটা উপার্জন ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে এই ‘মিডলম্যান’রা কখনও মুখ খুলত না।