


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সুবর্ণরেখা নদীর ধারে দেখা মিলছে রেড নেক্ড স্টিন্ট পাখিদের। শীতের মরশুমে সাইবেরিয়া থেকে পরিযায়ী পাখিদের দল বাংলায় আসে। পক্ষী গবেষকদের দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সমুদ্রের ধারে এদের দেখা যেত। এখন গোপীবল্লভপুরে সুবর্ণরেখা নদীর ধারেও এদের দেখা মিলেছে। রেড নেক্ড স্টিন্টদের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা থেকে নদীর দিকে আসা নিয়ে গবেষকরা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
সাইবেরিয়ার বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরা শীতের মরশুমে বাংলার নানা প্রান্তে আসে। এতদিন পরিযায়ী রেড নেক্ড স্টিন্ট পাখিদের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় দেখা যেত। সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা ছাড়া এদের দেখা যায় না। কিন্তু বর্তমানে সুবর্ণরেখা নদীর ধারে এদের দেখা মেলায় গবেষক মহলে বিস্ময় তৈরি হয়েছে। সুবর্ণরেখায় এই ধরনের পাখির তিনটি প্রজাতির দেখা গিয়েছে। বাংলায় এদের নাম লাল ঘাড় চাপাখি, ছোট চাপাখি ও টেমিঙ্কের চাপাখি। সাইবেরিয়া বরফে আচ্ছাদিত হলে খাবারের সন্ধানে এরা উষ্ণ এলাকায় উড়ে আসে। ঘাসজমির কীটপতঙ্গ এদের খাদ্য। সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় এরা ছোট চিংড়ি খায়। কীটপতঙ্গ, ছোট চিংড়ি ধরতে বালির চরে সমুদ্রের ঢেউয়ের জন্য অপেক্ষা করে। আবার সমুদ্রের বালির চরে ঠোঁট ঢুকিয়ে দ্রুত গতিতে খাবারের সন্ধান করে। প্রাণীবিদ্যার গবেষকদের দাবি, বর্তমানে এরা নদীর ধারে ধীরে সুস্থে খাবার সংগ্রহ করছে। যা এই পাখিদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের সুকমার সেনগুপ্ত মহাবিদ্যালয়ের জুলজির বিভাগীয় প্রধান সুমন প্রতিহার বলেন, সাইবেরিয়া থেকে বাংলায় আসা পরিযায়ী পাখিদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা গবেষণা চলছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুমদ্র তীরবর্তী এলাকায় এই পাখিদের দেখা যেত। কিছুদিন আগে গোপীবল্লভপুরের সুবর্ণরেখা নদীতীরবর্তী স্থানে এদের দেখা মিলেছে। সুমদ্রের ধার ছাড়া এদের দেখা মিলত না। কিন্তু এখন নদীর ধারে এদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। পরিযায়ী এই পাখিদের অভিযোজন ঘটে থাকতে পারে। গবেষক মহলেও বিষয়টি আলোড়ন সৃষ্টি করছে। ঝাড়গ্রামের জঙ্গল, পাহাড় ও নদীতীরবর্তী স্থানে নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। যা আগে কখনও দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই ঝাড়গ্রাম তথা জঙ্গলমহল নিয়ে আগ্ৰহ বাড়ছে। ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা পবিত্র মাহাত বলেন, জেলার পশু পাখিদের নিয়ে চর্চা করছি। সুবর্ণরেখা নদীর ধারে রেড নেক্ড স্টিন্ট দেখে অবাক হয়েছিলাম। এই পাখিদের এখানে আসার কথাই নয়। এরপরই প্রাণীবিদ্যার গবেষকদের এই পরিযায়ী পাখিদের দেখা পাওয়ার কথা জানাই। ওঁরাও বিস্ময় প্রকাশ করেন। লালগড় গভর্নমেন্ট কলেজের অধ্যাপক ও ইন্ডিয়ান বার্ড কনজার্ভেশন নেটওয়ার্কের সদস্য দেবব্রত দাস বলেন, ঝাড়গ্রামে এই পরিযায়ী পাখিদের আসার কথা আগে শুনিনি। যদি দেখা যায়, নিঃসন্দেহে সেটা বড় ঘটনা।