


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও কলকাতা: তিনি স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনে অভিযুক্ত। জেলা আদালত আগাম জামিন দিলেও কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু, রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন সেই নির্দেশকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন। ১০ দিনের মধ্যে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে প্রশান্তর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তারপরেও পার হয়ে গিয়েছে একমাসের বেশি সময়। এবার বুধবার রাতে তাঁর নিউটাউনের বাড়িতে গেলেন সিটের সদস্যরা। সেই বাড়িতে অবশ্য নেই প্রশান্ত।
গত বছর ২৮ অক্টোবর সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বপন কামিল্যা নামে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ এবং নিউটাউনের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছিল। পরদিন ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছিতে স্বপনবাবুর দেহ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনায় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে তৎকালীন রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। পরে কমিশনারেটের গোয়েন্দা শাখার হাতে যায় মামলার তদন্ত। পাঁচজন গ্রেপ্তার হলেও অন্যতম অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন অধরা ছিলেন। পরে বিডিও থেকে তাঁকে অপসারিত করা হয়। তদন্ত চলাকালীন বারাসত জেলা আদালত প্রশান্তের আবেদনে আগাম জামিন মঞ্জুর করেছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর কমিশনারেট। হাইকোর্ট আগাম জামিন বাতিল করে অভিযুক্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তিনি আত্মসমর্পণ না করায় বিধাননগর আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে। এরপর অভিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল। তাও আত্মসপর্মণ করেননি।
গত ২৫ মে নিউটাউনের রাস্তায় তিনি একজন পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিল প্রশান্ত। বেপরোয়া গতি, গুরুতর আঘাত, বিপজ্জনকভাবে ড্রাইভ এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মামলায় পরদিন জামিন পেয়ে যান।
গত ৩ জুন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর অপহরণ এবং খুনে অভিযুক্ত অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে কড়া নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। ১০ দিনের মধ্যে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে প্রশান্তর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ ছিল, রাজ্য পুলিশের ডিজিকে ১০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে একটি সম্মতি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, দায়িত্বে গাফিলতির জন্য তদন্তকারী শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা রায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাইকোর্টের ওই নির্দেশের পরই সিট গঠন করা হয়েছিল। সিটের সদস্যরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।