


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: কোচবিহারের কৃষক উকিল বর্মন অপহরণ কাণ্ডের পর সীমান্তে টনক নড়েছে বিএসএফের। তাদের জওয়ানরা চাষাবাদের সময় কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে মোতায়েন থাকছে। ইতিমধ্যে পুলিসের সঙ্গে বৈঠক করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসএফ। একই সঙ্গে সীমান্ত গ্রামে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিস। তারা প্রতিটি সীমান্তের গ্রামবাসী ও পঞ্চায়েত সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে।
বিএসএফের এক অফিসার জানিয়েছেন, গ্রামবাসীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই কাঁটাতারের ওপাড়ে জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্য পুলিসের উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ যাদব বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে কথা হয়েছে। গ্রামবাসীদের নিরাপত্তায় বিএসএফ জওয়ানরা তৎপরতা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি আমরাও উত্তরবঙ্গের সীমান্ত গ্রামে নজরদারি চালাচ্ছি।
উল্লেখ্য, দু’মাস আগে কোচবিহার জেলার শীতলকুচি সীমান্ত থেকে অপহৃত হয়েছিলেন কৃষক উকিল বর্মন। অভিযোগ, কাঁটাতারের বেড়ার ওপাড়ের জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে বাংলাদেশিরা তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এরপর রাজ্য সরকার ও পুলিসের তৎপরতায় ওই কৃষককে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। এই ঘটনার পর সীমান্ত গ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিস, বিএসএফ ও প্রশাসনের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করা হয়। কাঁটাতারের বেড়ার ওপাড়ে জওয়ানদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত ওই বৈঠকেই হয়েছে।
কোচবিহার থেকে মালদহ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই কাঁটাতারের বেড়ার ওপাড়ে রয়েছে প্রচুর চাষাবাদের জমি। ধান ও সব্জি চাষের পাশাপাশি জমিগুলিতে চা বাগানও রয়েছে। যার সঙ্গে কয়েক লক্ষ মানুষ জড়িত। পুলিস ও বিএসএফ সূত্রের খবর, চাষাবাদের জন্য কাঁটাতারের বেড়ার গেট সকালে নির্দিষ্ট সময়ে খোলা হয়। বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ করা হয়। কৃষক অপহরণ কাণ্ডের আগে পর্যন্ত জওয়ানরা গেটের এপারে মোতায়েন থাকত। বর্তমানে কৃষকদের নিরাপত্তার জন্য জওয়ানদের টিম কাঁটাতারের ওপাড়েও মোতায়েন থাকছে।
বিএসএফ ও পুলিস কর্তারা জানান, অপহরণ, জমির ফসল লুট, হাঙ্গামা পাকানো সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ রুখতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোরু, সোনার বিস্কুট, মাদক প্রভৃতি পাচারও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পুলিসের উত্তরবঙ্গের আইজি বলেন, সীমান্তের খোঁজ খবর নিতে নিয়মিত পঞ্চায়েত সদস্য ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। সীমান্ত গ্রামের সিভিক ভলান্টিয়ারদেরও আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকও করা হবে। প্রসঙ্গত, ১৬ ফেব্রুয়ারি শীতলকুচির ওই কৃষক অপহৃত হয়েছিলেন। ১৪ মে তাঁকে বাংলাদেশ থেকে উদ্ধার করা হয়।