


তেহরান: আর্থিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত সরকারি পরিষেবা না মেলার প্রতিবাদে মাস দুয়েক আগেই খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে পথে নামে ইরানের একাংশ জনতা। স্লোগান আর বিক্ষোভে তেহরানে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অনেকেই খামেনেইর পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন। সেইসময় একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল। দেখা যায়, খামেনেইয়ের ছবি পুড়িয়ে সেই আগুন থেকে সিগারেট ধরাচ্ছেন ইরানের এক তরুণী। শনিবার খামেনেইর মৃত্যুর পর আবার সামনে এলেন তিনি। নিজেকে ইরানের শরণার্থী দাবি করে রবিবার এক ভিডিয়োবার্তায় তাঁর বক্তব্য, ‘আমি বলেছিলাম তোমার কবরের উপর নাচব, তাই না...।’ পরের দিকে আর একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, ওয়াইন গ্লাস হাতে খামেনেইর মৃত্যু উদযাপন করছেন মর্টিসিয়া অ্যাডামস ছদ্মনাম ব্যবহারকারী ওই তরুণী। ক্যাপশানে লেখা, ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে বলেছেন - ও (খামেনেই) তো ইঁদুরের মতো মরেছে? একই দৃশ্য ইরানের কারাজ সহ একাধিক শহরে। লোকজন পথে নেমে নাচতে শুরু করেছেন। দক্ষিণ ইরানের গলেহ দার শহরে খোমেইনির স্মৃতিসৌধ ভেঙে ফেলেছেন একদল জনতা। আগুন জ্বলছে। লোকজন হাততালি দিচ্ছেন। চিৎকার করছেন। একজন বলছেন- ‘আমি কি স্বপ্ন দেখছি? নতুন পৃথিবীতে স্বাগত।’ খামেনেইর মৃত্যুতে উঠে এল এমনই উদযাপনের ছবি।
তবে বিপরীত ছবিও ধরা পড়েছে। কেউ ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব। কেউ ইজরায়েলকে কটাক্ষ করে একের পর এক মন্তব্য করে চলেছে। কালো পোশাকে লম্বা মিছিল শুরু হয়েছে। আর সেই মিছিলের মাঝে বুকে খামেনেইর ছবি আঁকড়ে সমানে কেঁদে চলেছেন এক মহিলা। মৃত্যু সংবাদ পরিবেশনের সময় কেঁদে ফেলেছেন টেলিভিশন সঞ্চালক। ইরানের মাশাদ শহরের ২১ বছরের তরুণ হোসেন দাদবক্সের বক্তব্য, এই হত্যার প্রতিশোধ নেবে ইরান। খামেনেইর জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করতেও রাজি আছি। এককথায়, খামেনেইর মৃত্যুতে যেন দ্বিধাবিভক্ত ইরান।