


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এশিয়া কাপে শ্রেয়স আয়ারের বাদ পড়া নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। ঠিক কোন যুক্তিতে ভারতীয় ব্যাটারকে ব্রাত্য রাখা হল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। আপশোসের সুর শ্রেয়সের বাবা সন্তোষ আয়ারের কণ্ঠেও। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘জানি না, টি-২০ দলে ঢোকার জন্য শ্রেয়সকে আর কী করতে হবে! প্রতি বছর আইপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করছে। ২০২৪ সালে কেকেআরকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। গতবার ওর নেতৃত্বে পাঞ্জাব কিংস ফাইনালে খেলেছে। তার পরেও ও স্কোয়াডে থাকার যোগ্য নয়? এটা কোনওভাবেই মানা যায় না। ক্যাপ্টেন না হোক, শ্রেয়স তো দলে থাকতেই পারত! আমি জানি, ছেলেটার মনের মধ্যে কী ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শ্রেয়স বরাবরই চুপচাপ। জিজ্ঞাসা করতে শুধু বলল, মেরা নসিব হ্যায়! এতেই স্পষ্ট, ও কত কষ্ট পাচ্ছে।’
এশিয়া কাপের দলে শ্রেয়সের অনুপস্থিতির জেরে নির্বাচকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। প্রশ্নের মুখে বিসিসিআই কর্তাদের ভূমিকাও। ঠিক কী কারণে, শ্রেয়স সুযোগ পেলেন না, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। ক্রিকেট সার্কিটে কান পাতলে শোনা যায়, কোচ গম্ভীরের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না হওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে মুম্বইকরকে। তবে পরিস্থিতি বদলের সম্ভাবনাও প্রবল। আগামী দিনে শ্রেয়সকে ওয়ান ডে দলের অধিনায়ক করার কথা ভাবছে বিসিসিআই। এই মুহূর্তে রোহিত নেতা। তবে তাঁকে আর বেশি সময় দিতে নারাজ নির্বাচকরা। সব ঠিক থাকলে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই শেষ ওয়ান ডে সিরিজ খেলে ফেলতে পারেন হিটম্যান। তাঁকে যে ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য যে ভাবা হচ্ছে না, সেটা নাকি হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন নির্বাচকরা। রোহিত অবসর নিলে ওয়ান ডে ফরম্যাটে শ্রেয়সই হতে পারেন পরবর্তী অধিনায়ক। তবে কোচ গম্ভীর চাইছিলেন, গিলকে তিন ফরম্যাটেই নেতা করা হোক। কিন্তু ওয়ার্কলোড বেড়ে যাবে, এই যুক্তি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পক্ষে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া, শ্রেয়সের ওডিআই রেকর্ড বেশ ভালো। গত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ ম্যাচে করেছিলেন ২৪৩ রান। পাশাপাশি একদিনের ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং গড় ৪৮.২২। তাই ক্যাপ্টেন হিসেবে শ্রেয়সের পাল্লাই ভারি।