


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাঘাযতীনে ফ্ল্যাটের মধ্যে মা মালবিকা মৈত্রকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার গুণধর ছেলে। অভিযুক্ত অভিষেক রবিবার দুপুরে পাটুলি থানায় আত্মসমর্পণ করতে এলে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। মায়ের টাকা হাতিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য সে এই ঘটনা ঘটিয়েছিল বলে পুলিসকে জানিয়েছে।
২৬ মার্চ মালবিকা মৈত্রের দগ্ধ দেহ মেলে ফ্ল্যাটের মধ্যে। শ্বাসরোধ করে খুনের পর তাঁকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও একই ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে বেপাত্তা ছিল অভিষেক। দরজা বাইরে থেকে তালা বন্ধ থাকায় তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, ছেলে মাকে খুন করে পালিয়েছে। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। পাঁচদিন বেপাত্তা থাকার পর রবিবার দুপুরে হঠাৎই সে থানায় হাজির হয়। পরিচয় দেওয়া মাত্রই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃত জেরায় জানিয়েছে, খুনের পর সে গড়িয়া, পাটুলি, লায়েলকা সহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। রাস্তায় দিন কাটাচ্ছিল। হোটেল বা গেস্ট হাউসে থাকলে ধরা পড়ে যাবে বলে সেখানে থাকার সাহস দেখায়নি। এভাবে বাইরে থাকতে না পেরে সে থানায় চলে আসে আত্মসমর্পণ করতে।
কেন মাকে খুন করল? এই নিয়ে অভিযুক্ত তদন্তকারীদের জানিয়েছে, মা দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী। তাঁর জন্য বিপুল টাকা খরচ হতো। সে ভালো কাজকর্ম না করায় টাকা-পয়সায় টান ছিল। অথচ তার শখ ছিল বিলাসবহুল জীবনযাপন করবে। সেই টাকাও তার কাছে ছিল না। সেই কারণে সে মায়ের টাকা হাতাতে শুরু করে। বেশিরভাগ টাকা তুলেও নেয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেয়, পুরো টাকা তুলে মাকে খুন করে পালাবে। এই টাকায় ফ্ল্যাট ও গাড়ি কিনবে। খুনের পর সে কিছু টাকা তোলে। এরপর ঘটনা জানাজানি হতে বাকি টাকা তোলার ঝুঁকি নেয়নি। পালাতে গেলে ধরা পড়ে যাবে বলে এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল।