


নয়াদিল্লি,১৯ জুলাই: টানা ২১ দিনের অনশনের পর গতকাল সোনাম ওয়াংচুককে জোর করে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে তিনি সোমবারই মামলাটির জরুরি শুনানির আবেদন করেছেন।
সোনামের স্ত্রী গীতাঞ্জলীর আবেদনে দাবি করা হয়েছে, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ অনশন কর্মসূচির ২১তম দিনে থাকা সোনাম ওয়াংচুককে চিকিৎসার অজুহাতে অবৈধ ও বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়েছে। ওয়াংচুককে অবিলম্বে মুক্তি বা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হোক। আরো অভিযোগ তাঁকে হাসপাতালের একটি পৃথক অংশে রাখা হয়েছে। এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও এখনও অনশন ভাঙতে রাজি নন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। এমনকি চিকিৎসা গ্রহণেও তিনি অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করেছেন গীতাঞ্জলি আংমো। তাঁর অভিযোগ, একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোনমকে ছাড়পত্র দিচ্ছে না এবং অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতিও দিচ্ছে না। তাঁর আরও দাবি, হাসপাতাল চত্বরে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন থাকায় কার্যত নজরবন্দি অবস্থায় রয়েছেন সোনাম।
সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে গীতাঞ্জলী লেখেন, সফদরজং হাসপাতালের ওপর তাঁর আর কোনো আস্থা নেই। তাঁর অভিযোগ, ওয়াংচুকের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ে হাসপাতালের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাঁর পটাশিয়ামের মাত্রা ২.৯-এ নেমে এসেছে, যা জীবনসংকটের ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু হাসপাতালের প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে কেবল 'পটাশিয়ামের মাত্রা কমছে' বলা হলেও নির্দিষ্ট মাত্রার উল্লেখ করা হয়নি।